চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনায় ১৬ মামলার আসামি মো. মুরাদ (৪৩)সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার অপর দুজন হলেন সুমন (৩৫) ও রুহুল আমিন। পুলিশের দাবি, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম।
পুলিশ জানায়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রামের পটিয়া থানাধীন কালারপুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বাকলিয়া থানার একটি অভিযান দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাতভর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাকলিয়া থানাধীন সৈয়দ শাহ রোডের মোরশেদ টাওয়ারের সামনে পাকা সড়কে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ বলছে, এ সময় জনসাধারণের জানমালের ক্ষতি ও নাশকতা সৃষ্টির পাশাপাশি সড়কে চলাচলরত সিএনজি অটোরিকশার গ্লাস ভাঙচুর করা হয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
এ ঘটনায় ২৮ সেপ্টেম্বর বাকলিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা করা হয়। মামলায় মো. মুরাদকে এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর তদন্তে সুমন ও রুহুল আমিনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে বাকলিয়া থানা পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মো. মুরাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, দ্রুত বিচার আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় করা মামলাও রয়েছে।
পুলিশের তথ্য বলছে, ২০১৩ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মুরাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ১৫টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে। সর্বশেষ বাকলিয়ার সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ১৬-তে দাঁড়িয়েছে।
বাকলিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




