কুমিল্লায় আলোচিত জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। নিহত তাজমিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা বলা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা তাঁদের সম্পর্ক এবং হত্যাকাণ্ডের আগে কক্সবাজারে একই হোটেলে অবস্থানের তথ্য সামনে আসায় মামলাটির তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কলাতলীর বিকাশ বিল্ডিং এলাকা থেকে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল রাজুকে গ্রেপ্তার করে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ অহিদুর রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজুকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তাজমিন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। কুমিল্লা থেকে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা এলে রাজুকে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অন্যথায় তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজু তাজমিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বান্দরবানের লামা উপজেলার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু কক্সবাজারের কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে বয় হিসেবে কাজ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় চার মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজুর সঙ্গে কক্সবাজারের কলাতলীর মেঘলা রিসোর্ট নামের একটি আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন তাজমিন। পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেলটি ছেড়ে যান।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাজমিন। কক্সবাজারে তাঁদের অবস্থানের বিষয়টি সামনে আসার পর হত্যা মামলার তদন্তে রাজুর সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা কী, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া বাকি।
তাজমিন নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কুমিল্লার জগতপুর গ্রামের কাছিকাটা মসজিদসংলগ্ন কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের পাশের একটি ফসলি জমিতে মরদেহটি পড়ে ছিল।
তাজমিনের বাবা আবদুল হালিম জানান, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পরও তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছিল। সে সময় তাজমিন বান্ধবীর বাসায় রয়েছে বলে তাঁকে জানিয়েছিল। পরে দুপুরের দিকে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তিনি।
এ ঘটনায় মূল আসামি হিসেবে উল্লেখ করা সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এখন রাজুকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী হবে, তা নিয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে তাজমিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, কক্সবাজারে অবস্থানের সময়কাল এবং হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে তাঁদের যোগাযোগের বিষয়গুলো।
এসব তথ্য যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা ও জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ।
তদন্তের ফলাফল ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।




