পাউবোর ১২৯১ কোটির ২ মেগাপ্রকল্প: কাজ এগুলো কতটুকু?

দৃশ্যমান হচ্ছে দেশের প্রথম হাইড্রোলিক এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণ কাজ!

অনলাইন ডেস্ক

আর্থসামাজিক ও কৃষিক্ষেত্রে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)র ১২৯১ কোটি টাকার ২টি মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

- Advertisement -

এর মধ্যে উপজেলার কৃষক ও জনসাধারণের মাঝে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে সংস্থাটির ১৩৩ কোটি টাকা বাজেটের একটি মেগাপ্রকল্প ঘিরে।

- Advertisement -
google news follower

শুধু উপজেলায় নয় যে প্রকল্পটি দেশের জন্যই প্রথম চ্যালেঞ্জ সে প্রকল্পের নির্মাণ কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতিতে ইতিমধ্যে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে উপজেলাবাসী। স্থানীয়রা এ প্রকল্পকে কৃষি উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি ব্যবস্থাপনায় একটি বড় অগ্রগতি মনে করছেন।

জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)র আওতাধীন পটিয়া উপজেলার শ্রীমাই খালে দেশের প্রথম আধুনিক হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম (HED) নির্মাণ করা হচ্ছে। ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতেই এগিয়ে চলেছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে আগামী বছরের জুন মাসে এ প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ করা যাবে।

- Advertisement -
islamibank

পটিয়া উপজেলার বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছরে বর্ষা মৌসুমে পটিয়ার রাক্ষসে শ্রীমাই খাল দিয়ে পাহাড়ী ঢল নেমে খালের ভাঙ্গনে আশে পাশের বহু বাড়ী-ঘর বিলীনসহ হাজার হাজার কৃষকের কষ্টার্জিত ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়।

তবে ১৩৩ কোটি টাকা ব্যায়ে পাউবোর মেগাপ্রকল্পের আওতায় এইচঈডি নির্মিত হলে জলরাশি সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রায় ১১০৮ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে এবং শ্রীমাই খালের ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য এ ইলেক্ট্রো-মেকানিকাল ড্যাম নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে বিপুল পরিমাণ পানি সংরক্ষণ সম্ভব যা পরে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা যাবে।

এইচইডি সম্পর্কে পাউবো কর্মকর্তারা বলেন, এইচইডি, এটি একটি হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম। যা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে পানি সংরক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

এই ড্যামটি রাবার ড্যামের মতো কাজ করে এবং এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে কৃষি ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

তাছাড়া ড্যামটি নির্মিত হলে পটিয়ার হাইদগাঁও, কেলিশহর, কচুয়াই ইউনিয়ন এবং পটিয়া পৌরসভার ১,১০৮ হেক্টর জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এছাড়াও পাহাড়ি ঢলসহ বর্ষা মৌসুমে পানির ধারণক্ষমতা বাড়াতে এই ড্যাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে উপজেলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে পর্যটন বিকাশেও সহায়তা করবে বলে আশা করছেন পাউবো কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন পটিয়া উপজেলা জুড়ে ১১৫৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বৃহৎ মেগাপ্রকল্পের ৭ ভাগে ভাগ করা প্রতিটি কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচসহ এ মেগা প্রকল্পের চলমান কাজের আওতায় রয়েছে ২৫.৫১ কিলোমিটার বাঁধ, ২৬টি রেগুলেটর নির্মাণ, ২.৯৫ কি:মি: প্রতিরক্ষা কাজ, ১টি ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ, ৩০.৫০ কি:মি: খাল খনন ইত্যাদি।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের ভৌত কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ করা হয়েছে। ৩০ কি.মি খাল পুনঃখননের কাজ ১০০ শতাংশ শেষ করা হয়েছে, গরুলুডা খালের ১০ কি.মি, শ্রীমাই খালের ৫ কি.মি, চানখালি খালের ৩.৫ কি.মি, আলম খাল, কাজির খালসহ আরও অন্যান্য খালের ১০ কি.মি খনন কাজ শেষ করা হয়েছে। নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ ২.৯৫ কিলোমিটার ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

নাইখাইন গ্রামে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণকাজ ৩৫ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। ৪.১০ কিলোমিটার ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ কাজ ৮০ শতাংশ শেষ করা হয়েছে। বাকি কাজ চলমান রয়েছে। সেচ রেগুলেটর নির্মাণ (স্লুইস গেট) ২৬টির মধ্যে ইতোমধ্যে কাজ ৬০ শতাংশ শেষ করা হয়েছে।

কাজের অগ্রগতি দেখেই স্থানীয় লোকজন অত্যন্ত খুশি। এলাকাবাসীরা জানান, আমাদের পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যায় ধান নষ্ট হতো। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ১৭ ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে কৃষকরা সুফল ভোগ করবে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন পটিয়ায় অনেক কৃষিজমি অনাবাদি পড়েছিল। এ প্রকল্পের কারণে অনাবাদি জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে এবং জলাবদ্ধতা রোধ হবে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১ পওর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, প্রকল্পের বন্যা নিয়ন্ত্রণ দেয়াল নির্মাণ, বেড়িবাঁধ ও সিসি ব্লকের বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজসহ ভৌত কাজের ৭০ শতাংশ শেষ করা হয়েছে, সব ধরনের কাজ দৃশ্যমান হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, পটিয়ায় অনেক কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে আছে। এ প্রকল্পের কারণে অনাবাদি জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

পটিয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে উপজেলার আশিয়া, হাবিলাসদ্বীপ, ধলঘাট, বড়লিয়া, দক্ষিণ ভূর্ষি, জঙ্গলখাইন, নাইখাইন, ভাটিখাইন, ছনহরা, কচুয়াই, হাইদগাঁও, কেলিশহর ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ উপকৃত হবে।

পটিয়ায় ২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য উৎপাদনসহ যোগাযোগ ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। পাশাপাশি নদী ও খালের ভাঙন থেকে সুরক্ষা পাবে। লবণ পানির প্রবেশ রোধ হবে। তিনি বলেন, প্রকল্প কাজ শেষ হলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা থাকবে না, কৃষিজমির ধানও আর নষ্ট হবে না।

জেএন/পিআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ