চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে দিনের আলোয় প্রকাশ্যে গুলি করে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার বেলা ২টার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় নিহত হন মাসুদুল হক চৌধুরী। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী এলাকার সাদেক চৌধুরীর ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাসুদুল যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে মাসুদুল ওষুধ কিনতে চৌমুহনী বাজারে যান। বাজারে অবস্থানকালে হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
আকস্মিক এই হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাসুদুলের মাথায় গুলি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “মাসুদুল ওষুধ কিনতে বাজারে গিয়েছিলেন। অতর্কিতে কয়েকজন লোক এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। আমরা জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছি।”
খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. বেলায়েত হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “গুলির ঘটনা শুনে এসে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পেয়েছি। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি শান্ত করতে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সড়কে অবস্থান নেওয়া লোকজনকে বুঝিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত দুই বছরে রাউজান উপজেলায় একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ চৌমুহনী বাজারের এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
তদন্ত শেষে হত্যার নেপথ্যের কারণ ও জড়িতদের পরিচয় স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




