চট্টগ্রাম বন্দরের সাফল্যের বছর, সব সূচকেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধি

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার আবারও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিল।

- Advertisement -

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কনটেইনার, খোলা পণ্য (বাল্ক কার্গো) এবং বাণিজ্যিক জাহাজ হ্যান্ডলিং—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই নতুন রেকর্ড গড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম।

- Advertisement -
google news follower

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অর্থবছরের শেষ দিন ৩০ জুনের হিসাব যুক্ত হওয়ার আগেই আগের বছরের সব অর্জন ছাড়িয়ে গেছে বন্দরটি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৯ জুন পর্যন্ত বন্দরে ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউ’স (২০ ফুট দীর্ঘ একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্পন্ন হয়েছে।

- Advertisement -
islamibank

আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউ’স। অর্থাৎ, শেষ দিনের হিসাব ছাড়াই কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এর আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ সালে বন্দরের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়েছিল ৩১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯০ টিইইউ’স কনটেইনার।

শুধু কনটেইনারের সংখ্যাই নয়, বেড়েছে কার্যক্ষমতাও। কনটেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থান সময় বা টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম কমে এখন দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৩৮ দিনে।

অর্থাৎ, আগের তুলনায় দ্রুত জাহাজ খালাস ও ছাড়পত্র নিশ্চিত করতে পারছে বন্দর, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

খোলা পণ্য পরিবহনেও এসেছে নতুন সাফল্য। ২৯ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৯১ টন বাল্ক কার্গো পরিবহন হয়েছে।

আগের অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৩ টন। এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

একই সময়ে বন্দরে আগত বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। চলতি অর্থবছরের ২৯ জুন পর্যন্ত বন্দরে এসেছে ৪ হাজার ৩২৪টি জাহাজ।

আগের অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৭৭টি। অর্থাৎ, জাহাজ আগমনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (মেরিন অ্যান্ড হারবার) কমোডর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, কার্গো, কনটেইনার এবং ভ্যাসেল—এই তিনটি খাতেই চট্টগ্রাম বন্দর নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে।

তাঁর ভাষ্য, ৩০ জুনের চূড়ান্ত হিসাব যুক্ত হলে প্রবৃদ্ধির হার আরও বাড়বে। আগামী ১ জুলাই বন্দর চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ করবেন।

তিনি জানান, সরকারের দিকনির্দেশনা, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, অটোমেশন এবং বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই এই ধারাবাহিক অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনারজাত পণ্য পরিবহনের প্রায় ৯৮ শতাংশ এককভাবে পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। ফলে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন ও বৈদেশিক বাণিজ্যের গতিশীলতারও ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

বিশ্বজুড়ে কনটেইনারে পণ্য পরিবহনের চাহিদা যেমন বাড়ছে, তেমনি শিল্পকারখানার কাঁচামাল পরিবহনে বাল্ক কার্গো জাহাজের ব্যবহারও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সেই বাস্তবতায় নতুন রেকর্ড গড়া চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বাণিজ্য প্রবাহকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের বড় সক্ষমতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ