সন্তান শুধু একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ নয়, বরং একটি সমাজ ও আগামীর পৃথিবীরও প্রতিচ্ছবি। তাই সন্তানকে যথাযথভাবে লালনপালনের মধ্য দিয়েই গড়ে তুলতে হবে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও আদর্শে সমৃদ্ধ প্রজন্ম।
আর সেই কাঙ্ক্ষিত প্রজন্ম গড়ার প্রথম শর্ত-নিজেকে তৈরি করা। এমনই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে এসেছে শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন মহিলাদের আত্মজিজ্ঞাসা ও জ্ঞানানুশীলনমূলক সংগঠন ‘দি মেসেজ’র ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত বিশেষ মহিলা মাহফিলে।
২৪শে জুলাই শুক্রবার বিকেলে নগরীর ষোলশহরস্থ এলজিইডি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ মাহফিলে “রাসুলুল্লাহ্ (দ.)-এর আদর্শে প্যারেন্টিং, স্নেহ, আত্মিক বন্ধন ও পারস্পরিক যোগাযোগ” শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কস্থ ‘নর্থ ব্রন্সক ইসলামিক সেন্টার’-এর সম্মানিত খতীব ও পরিচালক শাইখ ড. সাইফুল আযম বাবর আজহারী।
গুলেনারা সিদ্দিকী শবনম-এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে আলোচনাকালে শাইখ ড. সাইফুল আযম বাবর আজহারী বলেন, শিশুদেরকে যথাযথভাবে লালনপালন না করলে আগামীর পৃথিবী অস্থিরতায় রূপ নেবে।
সন্তানকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হলে পরিবারেই তৈরি করতে হবে উপযুক্ত পরিবেশ। তবে সেই পরিবেশ তৈরির আগে অভিভাবকদের নিজেদেরও প্রস্তুত হতে হবে।
তিনি বলেন, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করার জন্য প্রথমে নিজেকে তৈরি করতে হবে।
কারণ, একটি শিশুর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পরিবারই তার প্রথম শিক্ষালয়। অভিভাবকদের আচরণ, মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্পর্ক ও জীবনযাপন শিশুর মনোজগতে গভীর প্রভাব ফেলে।
আলোচনায় তিনি পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হযরত লোকমান (আ.)-এর উপদেশ, রাসুলুল্লাহ্ (দ.)-এর জীবন-দর্শন এবং সুফিয়ায়ে কেরামের শিক্ষার আলোকে সন্তানদের লালনপালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসব আদর্শ ও শিক্ষার আলোকে সন্তানদের গড়ে তোলা হলে তারা পরিপূর্ণ ইসলামী নৈতিকতায় বেড়ে উঠবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাহফিলে জ্ঞানগর্ভ আলোচনার পাশাপাশি ছিল পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মাইজভাণ্ডারী কালামের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হামিদা রশিদ সুমাইয়া। নাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবেশন করেন জান্নাতুল মাওয়া।
এছাড়া মাইজভাণ্ডারী কালাম পরিবেশন করেন আলিশা আক্তার আলভী, মিফতাহুল জান্নাত, উম্মে সায়মা সাদিয়া, সৈয়দা সিদরাতুল মুনতাহা, রোকেয়া খানম রুকু ও ফাতিমা।
জ্ঞান, আত্মজিজ্ঞাসা ও আধ্যাত্মিকতার আবহে আয়োজিত এ বিশেষ মহিলা মাহফিলের শেষপর্বে অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ-কিয়াম।
পরে দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে।




