চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার আমবাগান রেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ শীর্ষ মাদক কারবারি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তবে তাকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের ওপর হামলায় দুই পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার রাত ১০টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানকে কেন্দ্র করে আমবাগান ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, আলমগীর গ্রেপ্তার হলেও তার সশস্ত্র সহযোগীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় গোলাগুলি চলতে থাকে। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শীর্ষ মাদক কারবারি আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তারে খুলশী থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আলমগীর ও তার সহযোগীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে পুলিশের দাবি। এ সময় দুই পুলিশ কনস্টেবল ছুরিকাঘাতে আহত হন।
পরে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে কনস্টেবল মুবিনুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হলেও তার সহযোগীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমবাগান ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, আলমগীর গ্রেপ্তারের পরও তার সশস্ত্র সহযোগীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় গোলাগুলি চলছিল।
গুলির শব্দে আমবাগান ও আশপাশের এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, আমি অভিযানে রয়েছি। এই মুহূর্তে কথা বলা সম্ভব নয়। অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে দীর্ঘদিন ধরেই সিএমপির বিভিন্ন ইউনিট অভিযান পরিচালনা করে আসছিল।
পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে আলমগীর লালখান বাজার, আমবাগান, খুলশী ও রেলক্রসিং এলাকায় মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, ছিনতাই, মাদকসহ বহু মামলা রয়েছে।
আলমগীরকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলেও তার সহযোগীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকায় আমবাগান ও আশপাশের এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।




