কক্সবাজারের টেকনাফে একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এ ঘটনায় বাসটির চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বাসটিও জব্দ করেছে বিজিবি।
গত ১ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীন দমদমিয়া চেকপোস্টে এ অভিযান চালানো হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী পায়রা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস (কক্সবাজার-জ-১১-০২৫২) নিয়মিত তল্লাশির জন্য থামানো হয়।
পরে বিজিডি-১০৮৯ বিজিবি কে-৯ ডগ ‘মেঘলা’র সহায়তায় বাসটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় মাদকদ্রব্যের উপস্থিতির বিষয়ে সংকেত দেয় ‘মেঘলা’।
এরপর বিজিবি সদস্যরা বাসটির চালকের আসনসহ পুরো বাসে নিবিড় তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে চালকের আসনের সামনে স্টিয়ারিংয়ের নিচে দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থানে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ পাওয়া যায়।
পরে বাসের পেছনের একটি আসনের নিচে লুকানো আরও ২৫ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ৪৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির দাবি, অবৈধ মাদকদ্রব্য বহনের দায়ে বাসটির চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মোঃ রফিক (৩২) ও মোঃ জুয়েল (২২)।
রফিকের বাবার নাম মোঃ আফজাল এবং মায়ের নাম নুর নাহার। তাঁর বাড়ি কেকে পাড়া এলাকায়।
জুয়েলের বাবার নাম মোঃ কালু মিয়া এবং মায়ের নাম সফুরা খাতুন। তাঁর বাড়ি নতুন পল্লান পাড়া এলাকায়। দুজনেরই বাড়ি টেকনাফ উপজেলায়।
বিজিবির তথ্যমতে, উদ্ধার করা ৪৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদ ও পায়রা পরিবহনের বাসটির আনুমানিক সিজার মূল্য ৩০ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, অবৈধ পণ্য পাচার ও সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।
মাদক ও চোরাচালান দমনে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল, চেকপোস্টভিত্তিক তল্লাশি এবং কে-৯ ডগের সহায়তায় বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিজিবি জানিয়েছে, আটক দুজন এবং জব্দ করা মাদকদ্রব্য নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




