চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। নতুন করে আরও ৬৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ নিয়ে চলতি বছর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৮৫ জনে। এর মধ্যে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৮ জন।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ শুক্রবারের (২৫ সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৯ জন। এ মাসে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। অর্থাৎ বছরের মোট আক্রান্তের প্রায় অর্ধেকই শনাক্ত হয়েছেন শুধু সেপ্টেম্বরেই।
পরিসংখ্যান বলছে, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে। গত আগস্টে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ২০২ জন। ওই মাসে মারা যান ২ জন। এর আগে জুলাইয়ে আক্রান্ত হন ৫৩৬ জন এবং মৃত্যু হয় ২ জনের।
চলতি বছরের শুরু থেকেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ওঠানামা করলেও বর্ষার সময় থেকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে।
জানুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ৬৮ জন। ফেব্রুয়ারিতে আক্রান্ত হন ২২ জন এবং মৃত্যু হয় ১ জনের। মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৩৭ জন এবং জুনে ১২২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন।
এরপর জুলাইয়ে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩৬ জনে। আগস্টে তা আরও বেড়ে হয় ১ হাজার ২০২ জন। আর সেপ্টেম্বরের ২৫ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে আগের মাসগুলোর তুলনায় বড় ব্যবধান।
চলতি সেপ্টেম্বরেই ১ হাজার ৯৪৯ জন আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বছরের মোট ১৮ মৃত্যুর মধ্যে ১৩ জনই মারা গেছেন সেপ্টেম্বর মাসে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে যে ৬৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে।
এ ছাড়া সিএমএইচ হাসপাতালে ৩ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২১ জন। অর্থাৎ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ডেঙ্গু রোগীর চাপ তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা।
চলতি বছর চট্টগ্রামে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩ হাজার ৯৮৫ জনের মধ্যে পুরুষ রয়েছেন ১ হাজার ৯৭০ জন। নারী আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১২৯ জন। আর শিশু রয়েছে ৮৮৬ জন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে শিশু ও নারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই এ রোগের সংক্রমণ ও মৃত্যুর বড় ওঠানামা দেখা গেছে।
২০২৫ সালে চট্টগ্রামে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ৪ হাজার ৮৬৪ জন। ওই বছর মারা যান ২৭ জন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ৪ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা যান ৪৫ জন।
২০২৩ সালে পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ। ওই বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১৪ হাজার ৮৭ জন। তাঁদের মধ্যে মারা যান ১০৭ জন।
আর ২০২২ সালে মোট ৫ হাজার ৪৪৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে মৃত্যু হয় ৪১ জনের।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের মোট আক্রান্তের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সেপ্টেম্বরের ২৫ দিনেই ১ হাজার ৯৪৯ জন আক্রান্ত এবং ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য বলছে, চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে এই মাসটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




