চট্টগ্রামের সড়কে নতুন ইতিহাস, উদ্বোধনের অপেক্ষায় দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলার পথে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

- Advertisement -

বিমানবন্দর সড়কে নির্মিত দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

- Advertisement -
google news follower

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উদ্বোধনের এক দিন আগে বিমানবন্দর সড়কে নির্মিত সাইকেল ট্র্যাকের সার্বিক প্রস্তুতি ও নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আনুষ্ঠানিক সময়সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ট্র্যাকটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

উদ্বোধনের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দেখতে মেয়র ট্র্যাকটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

- Advertisement -
islamibank

এ সময় নির্মাণকাজের নান্দনিক মান, উদ্বোধনের সার্বিক প্রস্তুতি এবং নগরবাসীর চলাচলের সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।

সাইকেল ট্র্যাকটি যেন সর্বসাধারণের জন্য নিরাপদ, ব্যবহারবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন মেয়র।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজ করছি। বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের নগর ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এটি কেবল একটি সাইকেল চলাচলের পথ নয়; বরং পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর নগরজীবনের দিকে চট্টগ্রামের অগ্রযাত্রার প্রতীক।

চসিক মেয়র জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ‘চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর সড়কের সার্বিক উন্নয়নকাজ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি সড়কের উভয় পাশে নগরবাসীর হাঁটার জন্য ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কের মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে মিড আইল্যান্ড স্থাপন করা হয়েছে।

এর এক পাশে সুদৃশ্য ল্যান্ডস্কেপিংয়ের পাশাপাশি ওয়াকওয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বিশেষ এই সাইকেল ট্র্যাক।

উদ্যোগটির গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পৃথক সাইকেল লেন থাকায় সাইকেল আরোহীদের চলাচলের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়ার পাশাপাশি নগরীতে পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

একই সঙ্গে এই ট্র্যাক নগরবাসীকে স্বাস্থ্যসচেতন ও শারীরিক কার্যক্রমকেন্দ্রিক সক্রিয় জীবনযাপনে উৎসাহিত করবে বলেও মনে করেন মেয়র।

চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের দিকে আরও বেশি উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব সাইকেল ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করতে হবে। নিরাপদ সাইকেল চলাচলের চমৎকার পরিবেশ তৈরি হলে সবার মধ্যে সাইকেল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে।

মেয়রের মতে, সাইকেলের ব্যবহার বাড়লে নগরের যানজট ও বায়ুদূষণ কমাতেও তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

চট্টগ্রামকে একটি সত্যিকারের সাইকেলবান্ধব আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রয়োজনীয় নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগ নগরীর পরিবহনব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সাইকেল ব্যবহারে আগ্রহ তৈরি, শরীরচর্চার সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে ট্র্যাকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই সাইকেল ট্র্যাকটি সর্বস্তরের নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মো. আলী, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া এবং মেয়রের একান্ত সচিব (অ. দা.) আজিজ আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ