চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিখোঁজের প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের পুকুর থেকে মো. হোসাইন নামে ছয় বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার বিকেলে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সে। পরিবারের সদস্যরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। অবশেষে সোমবার সকালে বাড়ির পাশের পুকুরেই মেলে শিশুটির মরদেহ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়া এলাকার একটি পুকুরে মরদেহটি ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন নারী।
পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা সেটি উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় আনোয়ারা থানা-পুলিশ।
নিহত মো. হোসাইন উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পরুয়াপাড়া এলাকার রমজান আলী হাজীর বাড়ির আব্দুর রহিমের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। তার বাবা আব্দুর রহিম চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে বাড়ির পাশে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল হোসাইন। ছেলেকে খেলতে দেখে মা ঘরের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এরই মধ্যে কখন শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়, তা পরিবারের কেউ বুঝতে পারেননি।
সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও হোসাইন বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। শিশুটির সন্ধান পেতে এলাকায় মাইকিংও করা হয়। কিন্তু রাতভর চেষ্টা করেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে রোববার রাত নয়টার দিকে আনোয়ারা থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা আব্দুর রহিম। স্বজনদের উৎকণ্ঠায় কাটে পুরো রাত।
সোমবার সকালে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে পানি আনতে গিয়ে কয়েকজন নারী পানিতে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখেন। তাঁদের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে উত্তর পরুয়াপাড়া এলাকায়। যে শিশুকে খুঁজে পেতে আগের রাতেই এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল, সকালে তার মরদেহ উদ্ধারের খবরে ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
হোসাইনের চাচা মো. জাবেদ বলেন, আমার ভাতিজা গতকাল সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাইনি।
পরে তার খোঁজে এলাকায় মাইকিং করা হয়। ভেবেছিলাম, হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু সকালে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করতে হলো। এভাবে ওকে হারাতে হবে, কখনো ভাবিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসহাক বলেন, বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। খুব গরিব ঘরের সন্তান তারা। তাদের এমন দুর্ঘটনায় পুরো এলাকাবাসী শোকে কাতর হয়ে গেছে। গতকাল রাতে তার বাবা থানায় জিডি করে। সকালে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে শিশুটির বাড়িতে এসেছি। পুলিশের একটি দলও এখানে রয়েছে।
হোসাইনকে হারিয়ে তার বাবা-মা প্রায় ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান এই ইউপি সদস্য।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সাঁতার না জানায় অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে যায় শিশুটি। মরদেহ উদ্ধারের সময় শিশুটির মুখ দিয়ে পানি বের হচ্ছিল বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, শিশুটি সাঁতার জানতো না। ধারণা করা হচ্ছে, অসাবধানতাবশত পুকুরের পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




