মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ঢাকের বাদ্য, কাঁসরের ধ্বনি, চণ্ডীপাঠ আর বর্ণিল আলোকসজ্জায় মুখর হয়ে উঠেছে দেশের পূজামণ্ডপগুলো।
দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে উৎসবের আয়োজন।
তবে আনন্দের এই আবহের মধ্যেই প্রস্তুতিপর্বে কয়েকটি স্থানে হামলা, চুরি ও লুটপাটের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন আয়োজকেরা। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে দেশজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির তথ্যমতে, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৩৫১টি। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার দেশজুড়ে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৫০০টি।
বিশুদ্ধ পঞ্জিকা অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবী দুর্গার ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা সম্পন্ন হওয়ার কথা। এরপর সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবীকে মর্ত্যে বরণ করে নেবেন ভক্তরা।
সনাতন শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘোড়ায় এবং বিদায় নৌকায়।
শাস্ত্রমতে, অসুর শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেবতাদের সম্মিলিত তেজ থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন দেবী দুর্গা।
ভক্তদের বিশ্বাস, কৈলাস থেকে কন্যারূপে বাবার বাড়ি মর্ত্যে বেড়াতে আসেন দেবী। সেই বিশ্বাস, ভক্তি ও আনন্দকে কেন্দ্র করেই প্রতিবছর শরতে আয়োজন করা হয় দুর্গোৎসবের।
এবার দুর্গাপূজার তিথিতে রয়েছে কিছুটা ভিন্নতা। শনিবার ও পরদিন রোববার-দুই দিনব্যাপী পালিত হবে মহাসপ্তমী।
এরপর সোমবার মহাঅষ্টমী ও মঙ্গলবার মহানবমী। বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনের এই মহোৎসব।
বিজয়া দশমীর সারা দেশে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
দুর্গোৎসবকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানের মন্দির ও পূজামণ্ডপে শেষ হয়েছে প্রস্তুতির বড় অংশ। মন্দিরসহ প্রধান প্রধান মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন এবং আকর্ষণীয় আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
রঙিন সাজসজ্জা, প্রতিমার নান্দনিকতা এবং আলোকমালায় উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে মণ্ডপগুলোতে। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন ভক্তরা।
উৎসবের আনন্দের মধ্যেও প্রস্তুতিপর্বে ঘটে যাওয়া কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পূজা আয়োজকেরা।
পূজার প্রস্তুতিকালে সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইল জেলায় প্রতিমা ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া ফরিদপুরের ঐতিহাসিক কালীমন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সুনামগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে হামলা-লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।
নওগাঁয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় দিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বেশ কয়েকজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে।
উৎসবের দিনগুলোতে যেন আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকেরা।




