চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী মো. সাব্বির হোসেন সানি-কে (৩৪) নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশের দাবি, কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিল সানি।
এজন্য বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেত।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সানি বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগী।
আগে বিদেশে থাকা সানি বড় সাজ্জাদের নির্দেশনায় গত বছর দেশে ফিরে চট্টগ্রামে আসে। এরপর থেকে সে চাঁদাবাজি, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। বড় সাজ্জাদ ও বোরহানের হয়ে সে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।
জিজ্ঞাসাবাদে সানি জানিয়েছে, বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেত সে।
কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল।
এই চক্রের সদস্যরা প্রভাব ও ভীতির পরিবেশ তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের চেষ্টা করত। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলে সানির নির্দেশে স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর বাসা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালানো হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও নজরদারির পর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সানির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গত ৩০ অক্টোবর রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সানির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় পৃথক দুটি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি ঘটনার অডিও রেকর্ডও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে এসেছে।
তিনি আরও জানান, অডিও রেকর্ডসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে সানির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা, তার সহযোগীদের পরিচয় এবং অপরাধী চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের মুখে বড় সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমনের নির্দেশনায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত চক্রের সদস্যরা চট্টগ্রাম ছেড়ে অন্য জেলায় আত্মগোপন করেছে। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জেএন/এমআর




