লাঙলের জোয়ারে আ’লীগ-বিএনপিতে ভাটা

সূত্রাপুর-কোতোয়ালি থানা নিয়ে ঢাকা-৬ সংসদীয় আসন। এ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভিআইপি প্রার্থী থাকলেও, জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কাছে তারা অনেকটা নিষ্প্রভ বলা যেতে পারে।

- Advertisement -

এ আসনে বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ । স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে কাজী ফিরোজ রশীদ একজন সংগ্রামী নেতা। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তিনি রাজনীতির মাঠে জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখ। এ কারণে এলাকায় তার বেশ গ্রহণযোগ্যতা আছে। বিশেষ করে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান তার কারণেই হয়েছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী। এ কারণে সাধারণ ভোটারদের কাছে তার কদর বেশি।

- Advertisement -
google news follower

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চান ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সূত্রাপর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী আবু সাইদ। এর মধ্যে শাহে আলম মুরাদের এলাকায় পরিচিতি বেশি। রাজনৈতিক মাঠেও তার দাপট বেশ । এ কারণে কেউ কেউ আওয়ামী লীগ থেকে মুরাদকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন। তবে নির্বাচনে বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোট অংশ নিলে মুরাদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই ।

কারণ এ আসনের বর্তমান এমপি কাজী ফিরোজ রশিদ মহাজোট থেকে নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আর তিনি মহাজোট থেকে মনোনয়ন পাবেন এটা অনেকেই মনে করছেন।  এছাড়া আগেভাগেই তার হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ । এ কারণে মুরাদের মনোয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে দলের হাইকমান্ডে মুরাদের যোগাযোগ ভালো। এ কারণে তিনি মনোনয়নের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

- Advertisement -
islamibank

এ ব্যাপারে কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, আমার মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। কারণ আমি সন্ত্রাস ও মাদক দমনে কাজ করেছি। এলাকায় শান্তি-শৃংখলা ফিরিয়ে এনেছি। আমার সময়ে আমার আসনে কোনোপ্রকার সাম্প্রদায়িকতার ঘটনা ঘটেনি। আর ঘটবেও না।

মহাজোট গঠিত হলে মহাজোটের প্রার্থী তাকেই করা হবে বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন । আর যদি কোনো কারণে মহাজোট গঠিত না হয়, তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি  নির্বাচন করবেন।

কাজী ফিরোজ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি চাওয়া-পাওয়ার রাজনীতি করি না। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই আমার লক্ষ্য।

এদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ে অচলাবস্থার পাশাপাশি ভালো নেই বিএনপিও । কারণ দলটির হেভিওয়েট প্রার্থী ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা এবারও মনোয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। তবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে বেশ কয়েকটি মামলা চলছে। একটিতে তার সাজাও হয়েছে।। এ কারণে তিনি মনোনয়ন চাইলে আইনি কাঠামোয় তার নির্বাচন করাটা অনেকটাই অনিশ্চিত।

আর খোকা এখন আমেরিকায় অবস্থান করছেন। দুর্নীতির বেশ কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে  গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তিনি সহসা দেশে ফিরবেন, এমনটাও আশা করা যায় না। আইনি সমস্যায়  তিনি প্রার্থী হতে না পারলেও, তার ছেলে ইশরাক হোসেন বিএনপির মনোনয়ন চাইতে পারেন। এজন্য খোকা বিদেশ থেকে তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

এছাড়া এ আসন থেকে ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারও মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে সাদেক হোসেন খোকা মনোনয়ন চাইলে তিনি মনোনয়ন চাইবেন না বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, খোকা ভাই অসুস্থ। তিনি দেশের বাইরে থাকায় তার মনোনয়ন নিশ্চিত না। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করব।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রচারণা নেই বললেই চলে। তবে বিভিন্ন ইসলামী দলের বেশ কয়েকজন পরিচিত প্রার্থীর পোস্টার এলাকার দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে। এছাড়া দেয়ালে নতুন নতুন প্রার্থী মনোয়ন লাভের আশায় পোস্টার লাগিয়েছেন।

 

জয়নিউজ/আরসি

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ