দেশের স্বার্থ বিনষ্ট করে কাউকে চুক্তি করতে দেব না : মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সবচেয়ে বড় কথা যেটা– বাংলাদেশের স্বার্থ বিনষ্ট করে আমরা কখনোই কাউকে কোনো চুক্তি করতে দেব না, এ বিষয়ে আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। বাংলাদেশের স্বার্থ সর্বাগ্রে নিশ্চয়ই, ইনশাআল্লাহ রক্ষা করা হবে।

- Advertisement -

শনিবার (১৬ মে) রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘ফারাক্কা লং মার্চ দিবস’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

- Advertisement -
google news follower

মির্জা ফখরুল বলেন, ফরাক্কা দিবস এখন আমাদের কাছে একটা প্রতীক– প্রতিরোধের একটা প্রতীক। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, যিনি সারাজীবন জনগণের জন্য সংগ্রাম করেছেন, কথা বলেছেন এবং কখনো ক্ষমতার কাছে যাননি কিংবা ক্ষমতার দিকে তাকাননি। তিনি সারাজীবন এই দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন। মাওলানা ভাসানীকে আমি প্রথমেই আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা জানাই এবং আমাদের সবার ভালোবাসা জানাতে চাই। সেদিন তিনি এই দেশের মানুষ, বিভিন্ন দল ও ব্যক্তিত্বদের নিয়ে যে প্রতিরোধ রচনা করেছিলেন। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল- বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করা। প্রতিবেশী দেশ কিছু মানুষের ওপর যে অন্যায় করছে, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। এই অন্যায়টি শুধু কোনো ছোটোখাটো অপরাধ বা অন্যায় নয়; এটি হচ্ছে বিশাল একটা জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন।

তিনি বলেন, আমরা জানি, গঙ্গা বা পদ্মা নদী আমাদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষের জীবন-জীবিকা ও জীববৈচিত্র্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। সেই নদীতে বাঁধ অর্থাৎ ফরাক্কা বাঁধ নির্মিত হলে এই দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা বিনষ্ট হবে, জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হবে এবং পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। তখন সেই কথাটি তুলেছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।

- Advertisement -
islamibank

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেদিন উপলব্ধি করেছিলেন যে, জনগণকে সামনে নিয়ে যদি একটা শক্তি পৃথিবীতে দেখানো যায় এবং তারপর সেটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হয়, তাহলে তা অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। তিনি সেই কাজটাই করেছিলেন। যার ফলে তিনি যে চুক্তি করেছিলেন, সেই চুক্তিটা নিঃসন্দেহে অনেকাংশে বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে গিয়েছিল।

কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের যে, যখন এই চুক্তিটি প্রথম হয়, অর্থাৎ ১৯৭৩ সালে শেখ মুজিবুর রহমান যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তিনি যখন এই চুক্তি অর্থাৎ পানি আসার জন্য অনুমতি দেন বা চালু করার অনুমতি দেন, তখন থেকেই কিন্তু এই দেশের সর্বনাশটা শুরু হয়। শহীদ জিয়া চুক্তি করেছেন, পরবর্তীকালে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া চুক্তি করেছেন এবং শেখ হাসিনাও চুক্তি করেছেন। কিন্তু প্রধান বিষয় যেটা আমাদের নীতি নির্ধারকরা বলেছেন, এখানে চুক্তি কয়েক বছরের জন্য হলে চলবে না। এই চুক্তিটা হতে হবে ইনফিনিট (অনির্দিষ্টকালের জন্য) এবং পরবর্তী চুক্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত এর কার্যকারিতা থাকতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই চুক্তি শেষ হয়ে যাবে। এখন প্রশ্ন হলো, এই চুক্তি যদি এক্সটেনশন (নবায়ন) না হয় এবং পানি আসার ব্যবস্থা যদি নিশ্চিত না হয়, আজকে পদ্মা ব্যারেজ– অথবা আপনারা যাই বলুন, সেটি নির্মিত হওয়ার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি আরেকটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যা সমস্ত ভ্রুকুটিকে উপেক্ষা করে, অর্থাৎ অন্যান্য যে সমস্ত শক্তি বা দেশগুলো আছে তাদের ভ্রুকুটিকে উপেক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ভারত সরকারের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে এই চুক্তি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে আলাপ করে তাদের অভিপ্রায় ও চাওয়া অনুযায়ী সম্পাদন করতে হবে। এটা হচ্ছে আমাদের খুব পরিষ্কার কথা। অন্যথায়, যে কথাটা অনেকেই বলেছেন, ভারতের সঙ্গে যে সুসম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার সুযোগ এসেছে, সেটা নির্ভর করবে ভারতের এই গঙ্গা চুক্তি বা ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর। এ কথা আমরা বিশ্বাস করি এবং সেই আহ্বান আমরা তাদের কাছে জানাতে চাই।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, তারেক রহমানের সরকার জনগণের সরকার। আজকে এই সরকারের বিরুদ্ধে কিছু কিছু শক্তি অপপ্রচার চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, দেশের যে স্থিতিশীলতা আছে, সেই স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করবার একটা পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এই সম্পর্কে আমরা যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, তাদেরকে অনেক বেশি সজাগ হতে হবে। শুধু সজাগ নয়, আমাদেরকে সংগঠিত হতে হবে, যাতে কোনো রকম চক্রান্ত আমাদের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পরিপূর্ণ করার জন্য যে সরকার এসেছে, তার স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে না পারে।

তিনি বলেন, আমরা দেখলাম কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা বিভিন্নভাবে এই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন এবং আজকে আবার স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করবার চেষ্টা করছেন। আমরা আজকের এই আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট বলতে চাই সবাইকে যে, বাংলাদেশের জনগণ– যারা বুকে রক্ত দিয়ে গণতন্ত্রকে অর্জন করেছে। তারা কখনোই, কোনোভাবেই কোনো রকম চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রকে এখানে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেবে না।

জেএন/এমআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ