সাতকানিয়ায় বনায়নের জমি নিয়ে সংঘাত, নুরুর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সরকারি বনায়নের জায়গা দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরু (৩৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় তিন দিন পর হত্যা মামলা হয়েছে।

- Advertisement -

মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও সাত থেকে আটজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

- Advertisement -
google news follower

গত বুধবার রাতে নিহতের ছোট ভাই মো. শাহ আলম বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় মামলাটি করেন।

এজাহারে নাম উল্লেখ করা চার আসামি হলেন আকবর হোসেন বাঁচা, মো. হারুন, মো. ফোরকান এবং নিহতের সহোদর মো. ওসমান।

- Advertisement -
islamibank

মামলার এজাহার ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি বনায়নের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে আসামিদের সঙ্গে নুরুল ইসলামের বিরোধ চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ জুন নুরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার এক দিন পর, ২৪ জুন কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বড়দুয়ার ফরেস্ট অফিসের সামনে থেকে নুরুলকে অপহরণ করা হয়।

পরদিন ২৫ জুন বান্দরবান থানা পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে। প্রথমে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও আইসিইউ শয্যা না পাওয়ায় নগরীর মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৮ জুন সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

বাদী শাহ আলমের দাবি, মৃত্যুর আগে নুরুল ইসলাম তাঁকে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে যান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অপহরণের পর তাঁকে হারিচ্চার ডেবা এলাকায় নিয়ে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

পরে তাঁকে মৃত ভেবে বান্দরবানের সুয়ালক মাঝেরপাড়া ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

শাহ আলম আরও দাবি করেন, মৃত্যুর আগে ভাই যাদের নাম উল্লেখ করেছিলেন, সেই বক্তব্য তিনি মোবাইল ফোনে ভিডিও করে সংরক্ষণ করেছেন।

নিহত নুরুল ইসলামের তিন কন্যাসন্তান রয়েছে উল্লেখ করে শাহ আলম বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তাঁদের পরিবার মানবেতর অবস্থায় পড়েছে।

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মামলা করতে বিলম্ব হওয়ার কারণ সম্পর্কে শাহ আলম বলেন, ঘটনাস্থল নিয়ে সাতকানিয়া ও বান্দরবান থানার মধ্যে আইনি জটিলতা থাকায় শুরুতে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরে সাতকানিয়া থানা মামলাটি নথিভুক্ত করে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম হত্যা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ