এসডিজি বাস্তবায়নে গতি বাড়িয়ে দারিদ্র্য ও বৈষম্য অবসানে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার দাবি

অনলাইন ডেস্ক

২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র চার বছর বাকি। অথচ এখন পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৯ শতাংশ সঠিক পথে রয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজকেরা। এ অবস্থায় এসডিজি বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন পরিকল্পনার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে দেশের সব মানুষের জন্য কার্যকর ও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক জনসম্মিলনে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

- Advertisement -

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামে কারিতাস কার্যালয়ে ‘Regional People’s Assembly 2026’ শীর্ষক এ আঞ্চলিক জনসম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘Global Call to Action Against Poverty’ ও ‘People Rising to End Inequalities’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং ‘Global Action Week on SDGs’ উপলক্ষে এসডিজি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ, এনআরিডিএস (NRDS), ও আইএসডিই বাংলাদেশ যৌথভাবে এ জনসম্মিলনের আয়োজন করে।

- Advertisement -
google news follower

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই এর নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে ও ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরীর সঞ্চালনায় সম্মিলনে মুখ্য আলোচক ছিলেন এসডিজি অ্যাকশন এলায়েন্স এর সমন্বয়ক ও এনআরডিএস এর নির্বাহী পরিচালক আবদুল আওয়াল, আলোচক ছিলেন প্রবীন শিক্ষাবিদ ডঃ প্রফেসর ইদ্রিস আলী, বিশিষ্ট নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, কলামিস্ট মুসা খান, বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক সরোয়ার কামাল। আলোচনায় অংশনেন ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যগ্ন সম্পাদক মোঃ সেলিম জাাহাঙ্গীর, সমাজ কর্মী মিটুল দাস গুপ্ত, প্রশিকার উপ-পরিচালক সাহাদত হোসেন, ক্যাব চান্দগাঁও থানা সভাপতি মোঃ জানে আলম, সাধারন সম্পাদক ইসমাইল ফারুকী, ক্যাব পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের সভাপতি এবিএম হুমায়ুন কবির, সবুজের যাত্রার নির্বাহী পরিচালক সায়েরা বেগম, সংসপ্তকের নির্বাহী পরিচালক লিটন চৌধুরী, স্বপ্নীল বাংলাদেশের মোহাম্মদ আলী, দৃষ্টির হেলাল উদ্দীন মাহবুব, এসডিএস এর মৌসুমী আক্তার, উন্নয়ন কর্মী যুবায়ের ফারুক লিটন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি রোজাইন আল রাফি, সাংবাদিক মনিষা চক্রবর্তী, সাহাবুদ্দিন, ওসমান জাহাঙ্গীর ও এম এ হোসাইন, আইএসডিই‘র প্রজেক্ট অফিসার রাইসুল ইসলাম, এশিয়ান উইমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিলি সাইন মার্মা, সপ্তর্ষী চাকমা, বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আম্মার জয়ফুল্লাহ, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবিদ হোসেন রাফি ও মৌসুমী আক্তার প্রমুখ।

জনসম্মিলনে বক্তারা বলেন, ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অঙ্গীকার করেছিল। এর মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, লিঙ্গসমতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বৈষম্য কমানো এবং টেকসই নগর ও পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে নানা সংকটের কারণে এসব লক্ষ্যের অগ্রগতি প্রত্যাশিত গতিতে হচ্ছে না।

- Advertisement -
islamibank

জাতিসংঘের ২০২৬ সালের এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত প্রবণতাগত তথ্য পাওয়া ১৩৯টি লক্ষ্যের মধ্যে ৩৬ শতাংশ লক্ষ্য অন ট্র্যাক অথবা মাঝারি অগ্রগতির পর্যায়ে রয়েছে। তবে সামগ্রিক অগ্রগতি এখনও ধীর ও অসম। অর্থায়নের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঋণের চাপ, সংঘাত ও বৈষম্য এসডিজি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

জনসম্মিলনে বক্তারা বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে আগামী চার বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তবায়নের দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কোন লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং সেই ঘাটতি পূরণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—তা নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

তাঁরা বলেন, এসডিজি বাস্তবায়ন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। স্থানীয় সরকার, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সংস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণদের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা কঠিন।

বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজির অগ্রগতি পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসডিজির সূচকভিত্তিক অগ্রগতি প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে উন্নয়নের সুফল কোথায় পৌঁছাচ্ছে এবং কোন জনগোষ্ঠী পিছিয়ে রয়েছে, তা সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

তাঁরা আরও বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দরিদ্র জনগোষ্ঠী, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষ এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ‘কাউকে পিছনে না রাখা’ এসডিজির এই মূলনীতিকে বাস্তবায়নের কেন্দ্রে রাখতে হবে।

বাংলাদেশের সরকারি এসডিজি ট্র্যাকারেও ১৭টি লক্ষ্যের বিভিন্ন সূচকের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেখানে লক্ষ্য ও সূচকভিত্তিক অগ্রগতির পাশাপাশি কোন কোন ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে, সেটিও তুলে ধরা হয়।

জনসম্মিলনে বক্তারা বলেন, এসডিজি অর্জনের জন্য এখন আর নতুন প্রতিশ্রুতির চেয়ে বিদ্যমান প্রতিশ্রুতিগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন বেশি জরুরি। উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়াতে হবে।

তাঁরা বলেন, অর্থায়নের ঘাটতি পূরণ, স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এসডিজি বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো সম্ভব।

গ্লোবাল গোলস উইক ২০২৬ পালিত হচ্ছে ১৯ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর। এটি এসডিজি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ, সচেতনতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর জন্য বিশ্বজুড়ে নাগরিক সমাজ, ব্যবসা, শিক্ষাঙ্গন ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশীজনের একটি যৌথ উদ্যোগ।

জেএন/এমআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ