মূকাভিনয় শিল্পী মার্সেল মার্সোর প্রয়াণ দিবসে বামূফের স্মরণ আয়োজন

অনলাইন ডেস্ক

‘মাস্টার অব মাইম’ খ্যাত বিশ্ববরেণ্য ফরাসি মূকাভিনয় শিল্পী মার্সেল মার্সোর ২০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মূকাভিনয় ফেডারেশানের আয়োজনে আলোচনা সভা ও মূকাভিনয় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

- Advertisement -

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

- Advertisement -
google news follower

ফেডারেশানের সভাপতি সোলেমান মেহেদীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তানজিম তাজওয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফাদার তপন কামিলুস ডি রোজারিও; ফেডারেশানের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদ রিপন; শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের সহকারী পরিচালক ইমাম আব্দুল্লাহ হাকিম।

উপস্থিত ছিলেন মূকাভিনয় শিল্পী দেওয়ান মামুন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ফেডারেশানের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম রুবেল।

- Advertisement -
islamibank

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘মূকাভিনয় শিল্পের বিকাশ ও বিশ্বব্যাপী বিস্তারে মার্সেল মার্সোর অবদান অনস্বীকার্য। ভারতীয় উপমহাদেশসহ বাংলাদেশে মূকাভিনয় চর্চাতেও তার শিল্পভাবনা ও উপস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

প্রতিটি মূকাভিনয় আয়োজনেই মার্সেল মার্সো প্রাসঙ্গিক। ১০০ বছর পরেও, এমনকি যতদিন মূকাভিনয় শিল্প টিকে থাকবে, ততদিন মার্সো প্রাসঙ্গিক থাকবেন।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘মূকাভিনয় শিল্পে মার্সোর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। তার সৃষ্ট বিখ্যাত চরিত্র ‘বিপ’ ও এর স্বাতন্ত্র্যপূর্ণ পোশাক ও মঞ্চ-উপস্থাপনাও বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের মূকাভিনয় চর্চায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।

মার্সোকে অনুসরণ করে শিল্পীরা যেমন মূকাভিনয়ের ভাষা শিখেছেন, তেমনি তার শিল্পভাবনাকে অতিক্রম করে নতুন সৃষ্টির পথও উন্মুক্ত হতে পারে।

বক্তারা বলেন, ‘মূকাভিনয় সহজ কোনো শিল্প নয়। দীর্ঘ অনুশীলন, শরীরের নিয়ন্ত্রণ, অভিব্যক্তি ও নান্দনিক বোধের সমন্বয়ে একজন শিল্পী এই শিল্পে দক্ষতা অর্জন করেন।

প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রূপে নীরব অভিনয়ের চর্চা থাকলেও মার্সেল মার্সো আধুনিক মূকাভিনয়কে বিশ্বব্যাপী নতুন পরিচিতি দিয়েছেন।

‘মূকাভিনয়’ শব্দটি উচ্চারিত হলে আজও তার অবয়ব আমাদের সামনে ভেসে ওঠে।’

বাংলাদেশে মূকাভিনয় শিল্পের চর্চা ও বিকাশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

শিল্পকলা একাডেমি পদকে মূকাভিনয়কে যুক্ত করার অনুরোধ জানান বক্তারা।

তারা বলেন, ‘নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রদর্শনী ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ শিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে মূকাভিনয় প্রদর্শন করে প্যান্টোমাইম মুভমেন্ট চট্টগ্রাম, দ্য মামার্স ঢাকা, সাইলেন্ট থিয়েটার চট্টগ্রাম, রঙ্গন মাইম একাডেমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, মাইম ফেইস নারায়ণগঞ্জ, শাওন মাইম একাডেমি ঢাকা ও মূকবলাকা ঢাকা।

মার্সেল মার্সোর শিল্পদর্শন, মূকাভিনয়ের নান্দনিকতা ও নীরবতার শক্তিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে আয়োজনটি তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বাংলাদেশে মূকাভিনয় শিল্পচর্চার ধারাবাহিকতা ও সম্ভাবনাকেও সামনে নিয়ে আসে।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ