এশিয়ান গেমসে টানা দুই পরাজয়ের পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ পুরুষ হকি দল। হতাশার দুই ম্যাচের পর যেন নতুন করে নিজেদের জানান দিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাপানের আইচি-নাগোয়ায় শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের খেলায় ছিল আত্মবিশ্বাস ও আক্রমণের ধার।
শ্রীলঙ্কাকে নিজেদের অর্ধে ব্যস্ত রেখে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে লাল-সবুজের দল। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, বাংলাদেশের চাপ ততই বেড়েছে। সেই চাপ সামলাতে গিয়ে শ্রীলঙ্কার রক্ষণভাগকে বারবার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে।
বাংলাদেশের আক্রমণের তীব্রতা বোঝা যায় পেনাল্টি কর্নারের সংখ্যাতেও। পুরো ম্যাচে ১৫টিরও বেশি পেনাল্টি কর্নার (পিসি) আদায় করে নেয় বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণ এবং পিসির চাপে শ্রীলঙ্কার রক্ষণভাগ কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশের হয়ে আমিরুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান। দুজনই করেন দুটি করে গোল। তাদের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের আক্রমণ পায় আরও ধার।
বাংলাদেশের পঞ্চম গোলটি করেন মাহবুব হোসেন। ফলে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
অন্যদিকে, প্রবল চাপের মধ্যেও শ্রীলঙ্কা একটি গোল শোধ করতে সক্ষম হয়। দলটির হয়ে কুশল সেই গোলটি করেন। তবে সেটি ম্যাচের গতিপথ বদলাতে পারেনি। বরং বাংলাদেশের আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্সের সামনে শ্রীলঙ্কার সেই এক গোল শেষ পর্যন্ত কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
এই জয় বাংলাদেশের জন্য শুধু স্কোরলাইনে একটি জয় নয়; টানা দুই পরাজয়ের পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
এশিয়ান গেমসে এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং জাপানের কাছে ৬-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয়টি এসেছে সেই দুই ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে ওঠার বার্তা নিয়ে।
তিন ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ এখন ৩ পয়েন্ট। এক জয় ও দুই হার নিয়ে পুল ‘এ’-তে তারা রয়েছে চতুর্থ স্থানে। অন্যদিকে, দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ভারত।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল আক্রমণে ধারাবাহিকতা। একের পর এক পেনাল্টি কর্নার আদায়, প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার দক্ষতা-সব মিলিয়ে ম্যাচটিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।




