তিন দিনের ছুটি শেষে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মাদ্রাসায় ফেরার কথা ছিল ১২ বছরের মুহাম্মদ মিনহাজের। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। এর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাজখালী খালে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এই মাদ্রাসাছাত্রের।
শনিবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খতিবনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মুহাম্মদ মিনহাজ একই এলাকার মুহাম্মদ ইব্রাহিমের ছেলে। সে ইসলামপুর তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া ছত্তারিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র ছিল।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে মিনহাজ বাড়িতে তার সাইকেল রেখে এক বন্ধুর সঙ্গে বের হয়। রাজখালী খালের পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ সে খালে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সঙ্গে থাকা বন্ধু পেছনে ফিরে মিনহাজকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে চিৎকার শুরু করে।
বন্ধুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা খালে নেমে মিনহাজকে উদ্ধার করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, তিন দিন আগে অসুস্থতার কারণে মাদ্রাসার হিফজ বিভাগ থেকে ছুটি নিয়ে মিনহাজকে বাড়িতে নিয়ে যান তার মা। শনিবার সকাল ১১টার দিকে তাকে আবার মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু মাদ্রাসায় ফেরার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে সকাল ৯টার দিকে বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয় মিনহাজ। এরপর রাজখালী খালে পড়ে তার মৃত্যু হয়।
মিনহাজের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মিনহাজের মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুল আলম বলেন, মুহাম্মদ মিনহাজ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই সে চার পারা পবিত্র কোরআন হিফজ করেছিল। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
এদিকে মিনহাজের মরদেহ স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলে খবর পেয়ে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশ মরদেহ আটকে রাখে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবার।
পরে পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকার বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নেতারা বিষয়টি নিয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়।
রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিনহাজের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও মাদ্রাসায় নেমে এসেছে শোকের ভারী আবহ। যে শিশুটির কোরআন হিফজের পথচলা মাত্র শুরু হয়েছিল, একটি দুর্ঘটনায় হঠাৎ থেমে গেল তার সেই পথচলা।




