চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুরে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়েছে রাউজান থানা পুলিশ।
পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে ছয় কর্মকর্তাসহ মোট ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
অভিযানের একপর্যায়ে দিলদার হোসেন (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়।
পরে তার হেফাজত ও তার দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে দোনলা বন্দুক, একনলা কাটা বন্দুক, চায়না রাইফেলের গুলি, সীসা কার্তুজসহ বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোঃ জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস-এর নেতৃত্বে তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও চাঁদা আদায় করে আসছিল।
পুলিশ জানায়, সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর তারা জনৈক আবু বক্কর চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পাওয়ার পর চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম রাউজান থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ২২:৪০ ঘটিকার সময় রাউজান থানাধীন ৮নং কদলপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বসতঘরের ভেতরে থাকা জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২), মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২), দিলদার হোসেন (৩৭), মোঃ রুবেল (২৭), মোঃ মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) এবং মোঃ বাঁচা (৪৫)সহ সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আকস্মিক সশস্ত্র হামলার মুখে পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ সময় এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মোঃ খোরশেদ আলম, এসআই মোঃ বায়েজিদ মৃধা, এসআই মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মোঃ জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস ও এএসআই মোঃ রবিউল হোসেনসহ মোট ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
অভিযানের একপর্যায়ে দিলদার হোসেন (৩৭) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশের হাতে আটক হন। এ সময় অপর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে আটক দিলদার হোসেনের হেফাজত থেকে এবং তার দেখানো মতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে-১টি ডিবিবিএল (দোনলা বন্দুক), ১টি এসবিবিএল (একনলা কাটা বন্দুক), ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, ৬ রাউন্ড সীসা কার্তুজ, ৪টি রামদা, ২টি কটি ও ২টি গুলি রাখার প্রসেস।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ও পলাতক সহযোগীদের সংঘবদ্ধ ও অস্ত্রধারী অপরাধী হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে দুটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়।
পরপর দুই রাতে কদলপুর এলাকায় অস্ত্র ও অপরাধবিরোধী অভিযানের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।




