সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী পেলেই গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক

কিশোর গ্যাং, মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।

- Advertisement -

সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বাইরে আড্ডা দিতে দেখলে আটক ও গ্রেপ্তার করা হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

- Advertisement -
google news follower

এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণ না থাকলেও অতীতে অপরাধে জড়িত থাকার রেকর্ড পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে গতকাল শনিবার ‘নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ দমন’ শীর্ষক এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।

- Advertisement -
islamibank

তিনি বলেন, ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে কিশোরদের অপরাধ ও মাদকের জগতে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

ডিআইজি বলেন, ‘এই সময়টা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সময়। এই সময়ে, এই বয়সে-কিশোর যারা, তারা যেন নষ্ট হয়ে না যায়, তারা যেন এই মাদকের অন্ধকার চোরাবালিতে হারিয়ে না যায়, তারা যেন এ রকম ইভটিজার হয়ে সমাজে বেড়ে না ওঠে, তার জন্য আমাদের প্রতিরোধমূলক অ্যাকশন হবে।’

সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের বাইরে অবস্থানের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার পরে স্কুলপড়ুয়া, কলেজপড়ুয়া কোনো ছেলেপেলেকে যদি পাওয়া যায়, তাকে ধরা হবে। তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপযুক্ত প্রমাণ যদি না থাকে, যদি তার প্রিভিয়াস (ক্রিমিনাল) হিস্ট্রি থাকে, তাকে আইনগতভাবে সোপর্দ করা হবে এবং অভিভাবকদের দায়ী করা হবে; কেন আপনার ছেলে সন্ধ্যার পরে রাস্তায় আড্ডা দিতে যাচ্ছে?’

আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, কিশোরদের বিপথগামী হওয়া ঠেকানো না গেলে জাতি হিসেবে ভবিষ্যৎ অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানের অগ্রগতি তুলে ধরে ডিআইজি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের যুদ্ধ ঘোষণা আগেও ছিল, এখনো তা চলমান।

তাঁর যোগদানের তিন মাসে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। পুরো চট্টগ্রাম রেঞ্জে মাদক উদ্ধারের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ এবং আসামি গ্রেপ্তারের সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেড়েছে।

তিনি জানান, তিন মাসে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় ৬০ হাজার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রতিবেশী কোনো নারী সহিংসতার শিকার হলে সেটিকে কি কেবল পারিবারিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত? নাকি এমন ঘটনায় এগিয়ে আসার দায়িত্ব সমাজেরও রয়েছে?

একইভাবে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ও তরুণদের মাদকাসক্তিকে আর কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এসব এখন সামগ্রিক সামাজিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইয়াবার প্রভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে উল্লেখ করে ডিআইজি বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা নেশার খরচ জোগাতে ঘরের জিনিসপত্র, বাবা-মায়ের টাকা ও গয়না চুরি করছে।

ঘরের এসব সম্পদ শেষ হয়ে গেলে তারা রাস্তায় ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ মাদকের টাকা সংগ্রহ করতে মানুষ খুন করতেও দ্বিধা করছে না।

মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে সন্তানদের হাতে বাবা-মা খুন হওয়ার কয়েকটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলার দায়িত্ব শুধু পুলিশের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন ডিআইজি।

তিনি বলেন, ‘সব দায়িত্ব কি আমরা পুলিশের ওপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকব? একজন নাগরিক হিসেবে আমার কি কোনো দায়িত্ব নেই? দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে এই সামাজিক আন্দোলনে আমাদের অংশ নেওয়া উচিত নয় কি?’

সামাজিক অপরাধ ও মাদক প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করতে পরিবার, সমাজ ও নাগরিকদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব রয়েছে।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ