দেশের বাজারে প্রত্যাশিত দাম মেলেনি। তাই আবুধাবি থেকে বাংলাদেশে আনা প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণের ডিম আবারও সেই দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
কাস্টমস গোয়েন্দাদের পৃথক দুটি অভিযানে ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম ওজনের ছয়টি স্বর্ণের ডিম আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
রোববার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবিগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১২৭ ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে তিনটি স্বর্ণের ডিম উদ্ধার করেন কাস্টমস গোয়েন্দারা।
একই দিন বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় ফেলে রাখা অবস্থায় আরও তিনটি স্বর্ণের ডিম উদ্ধার করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ফ্লাইটটির যাত্রী মোহাম্মদ মিনহাজকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিমান থেকে অফলোড করা হয়।
ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। পরে ওই যাত্রীর কাছ থেকে ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম ওজনের তিনটি স্বর্ণের ডিম উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একই ওজনের আরও তিনটি স্বর্ণের ডিম পাওয়া যায়। পৃথক দুটি অভিযানে উদ্ধার করা ছয়টি ডিমের মোট ওজন ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম। এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে কাস্টমস গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, স্বর্ণের ডিমগুলো এর আগে আবুধাবি থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। কিন্তু দেশের বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় সেগুলো আবার আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
তবে এই স্বর্ণের পেছনে কারা রয়েছেন, কীভাবে সেগুলো দেশে আনা হয়েছিল এবং পুনরায় বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনায় কারা যুক্ত ছিলেন, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন কাস্টমস গোয়েন্দারা।
আটক স্বর্ণের প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, সম্ভাব্য চোরাচালান চক্র এবং এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সিআইআইডি।




