মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক

ছোট খাটো বিরোধ স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি হলে উচ্চ আদালতে বিচারিক চাপ কমবে

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, ছোট খাটো বিরোধ স্থানীয়ভাবে গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি করা গেলে উচ্চতর আদালতে বিচারিক চাপ কমবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিচারিক সেবা নিশ্চিত করতে হলে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ জরুরী।

- Advertisement -

আজ ১৯ মে মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে আইন সহায়তা প্রদানকারী এনজিও সমূহের ভূমিকা ও করণীয়’-শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

- Advertisement -
google news follower

চট্টগ্রাম জেলায় কর্মরত ৪০টি এনজিও’র কর্মকর্তা/প্রতিনিধি সভায় অংশগ্রহণ করেন।

ডিসি বলেন, গ্রামের ছোটখাটো সমস্যাগুলোকে বড় করে না দেখে সমাধানকে বড় করে দেখতে হবে এবং স্থানীয়ভাবে সংঘটিত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ ২’শ বছরের পুরাতন শক্তিশালী ইনস্টিটিউট। এটি সক্রিয় থাকলেই সরকার তার কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালিত করতে পারবে। পরিষদের সালিশ বৈঠক শত বছরের ঐতিহ্য। গ্রামের মানুষ যাতে স্বল্প পরিসওে, স্বল্প খরচে ও স্বল্প সময়ে আইনগত সহায়তা পায় সে লক্ষ্যেই গ্রাম আদালত-এই বার্তা পৌঁছে দিতে এনজিও সংস্থাগুলো এগিয়ে আসলে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আর পিছিয়ে থাকবে না।

- Advertisement -
islamibank

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসানের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার সাজেদুল আনোয়ার ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন, সহকারি কমিশনার (স্থানীয় সরকার শাখা) এস.এম আমিরুল মোস্তফা, সহকারী কমিশনার (তথ্য ও অভিযোগ শাখা এবং এনজিও সেল) ফারজানা রহমান মীম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক উর্বশী দেওয়ান, এনডিপি বাংলাদেশ’র লিগ্যাল এনালিস্ট মশিউর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশে গ্রামম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের সমন্বয়কারী ও ইপসার সহকারী পরিচালক ফারহানা ইদ্রিস।

চট্টগ্রাম জেলায় কর্মরত ৪০টি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশের গ্রামীন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়-বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণে স্থানীয় এনজিওসমূহ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের এসব এনজিও দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সালিশ-মীমাংসা পরিচালনা, আইনি পরামর্শ প্রদান, মামলা পরিচালনায় আইনজীবির ফি সহায়তা, আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবাধিকার বিষয়ে প্রচারণা কার্যক্রম। তবে বাস্তবতায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অনেক এনজিও কর্মী ও প্রতিনিধি এখনো গ্রাম আদালত ব্যবস্থা, এর এখতিয়ার, কার্যপ্রক্রিয়া ও সম্ভাবনা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সহজ, স্বল্প ব্যয় ও দ্রুত বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জনগণ জেলা বা উচ্চতর আদালতের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে এনজিও প্রতিনিধিদেরকে গ্রাম আদালত ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা ও তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে এই ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সভায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিযকরণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের উদ্যোগে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে গ্রাম আদালতের সেবা বিষয়ক প্রচারণার জন্য প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়নে সহযোগী সংস্থাসহ চট্টগ্রামে কর্মরত এনজিওসমূহ তাদের নিজস্ব কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত অংশীজনদের সাথে গ্রামম আদালত বিষয়ক প্রচার-প্রচারণা কাজ সম্পাদন করছেন।

চট্টগ্রাম জেলায় গ্রাম আদালত প্রকল্পের শুরু থেকে (ফেব্রুয়ারী ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৬) এ সময়ে ১৫টি উপজেলার আওতাধীন ইউনিয়ন সমূহে কর্মরত বেসরকারী সংস্থা সমূহের মাধ্যমে মোট ৮৭২টি প্রচারণা কার্যক্রম সম্পাদন করেছেন। এর মাধ্যমে ৩১ হাজার ৮৪৮ জন পুরুষ ও ৩৮ হাজার ১৩৮ জন নারীর মাঝে গ্রাম আদালতের সেবা বিষয়ক বার্তা দিতে পেরেছেন বলে অংশগ্রহণকারীগণ জানিয়েছেন।

জেএন/এমআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ