চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় গড়ে ওঠা এক গোপন জ্বালানি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জেট ফুয়েল, ডিজেল ও অকটেন জব্দ করেছে কোস্টগার্ড।
বিমানবন্দরে সরবরাহের কথা থাকা জেট ফুয়েল চোরাকারবারিদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে।
ঘটনার পর পদ্মা অয়েল পিএলসি ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, পদ্মা অয়েল পিএলসির ডিপো থেকে একটি ট্যাংকলরিতে করে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরবরাহের জন্য জেট ফুয়েল নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে সেটি পৌঁছে যায় পতেঙ্গা থানার ভিআইপি রোডসংলগ্ন একটি গোপন স্থাপনায়।
সেখানে ছোট সুইমিংপুলের মতো চৌবাচ্চা তৈরি করে জেট ফুয়েল জমা করা হচ্ছিল। পাশাপাশি সারি সারি ড্রামে রাখা ছিল ডিজেল ও অকটেন।
গতকাল সোমবার গভীর রাতে কোস্টগার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা ওই আস্তানায় অভিযান চালায়।
অভিযানে ৭ হাজার লিটার জেট ফুয়েল, ৬ হাজার লিটার ডিজেল, ১ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন এবং তেল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। জব্দ করা জ্বালানির আনুমানিক বাজারমূল্য ২৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোস্টগার্ডের সিগন্যাল কমিউনিকেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট হাসিব-উল-ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটকে কেন্দ্র করে অসাধু চক্র যাতে অবৈধভাবে তেল মজুত বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও পাঠান কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম।
তবে অভিযানের সময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এর কয়েক ঘণ্টা পর একই রাতে ইপিজেড থানার আকমল আলী জলকপাট এলাকায় আরেকটি অভিযান চালায় কোস্টগার্ড।
সেখানে একটি ঘাটে তল্লাশি চালিয়ে জাহাজ থেকে অবৈধভাবে খালাস করা প্রায় পাঁচ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার করা ভোজ্যতেলের বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রেও জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
জেট ফুয়েল চুরির চেষ্টার ঘটনায় ইতিমধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে পদ্মা অয়েল। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চারজন হলেন—পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপক সোহেল ইদ্রিস, চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা মিল্টন রায়, কর্মী মো. ইদ্রিস এবং ট্যাংকলরির চালক মো. জসিম উদ্দিন।
পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, ঘটনা জানার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি পদ্মা অয়েল ও বিপিসির পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, জ্বালানি ও ভোজ্যতেল চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ অভিযানও পরিচালনা করা হবে।




