দিনের আলোয় ব্যস্ত চট্টগ্রামের হাজারী লেন। সারি সারি ওষুধের দোকান, গুদাম আর পাইকারি বেচাকেনায় সরগরম পুরো এলাকা।
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি বড় অংশের ওষুধ সরবরাহের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছে এই বাজারের নাম।
তবে দৃশ্যমান এই বাণিজ্যের আড়ালে বছরের পর বছর ধরে নকল, ভেজাল, নিম্নমানের ও ‘দুই নম্বর’ ওষুধের একটি অদৃশ্য সরবরাহ নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রায় চার দশক ধরে ঢাকা ও চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব অবৈধ ওষুধ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও মিটফোর্ডের পাইকারি বাজার থেকে পণ্য পৌঁছায় চট্টগ্রামের হাজারী লেনে। এরপর সেখান থেকে চট্টগ্রাম বিভাগ পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এসব ওষুধ।
সরবরাহের এই দীর্ঘ পথের কোথাও নজরদারির ঘাটতি, আবার কোথাও প্রভাবশালী আশ্রয়-প্রশ্রয়ের সুযোগে নেটওয়ার্কটি টিকে আছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এই কথিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি (বিসিডিএস) চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি নুরুল গণি এবং বিসিডিএস সদস্য শিবু প্রসাদের নাম। তাঁদের সঙ্গে ওয়াসিম, রাশেদসহ আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, হাজারী লেনের বিভিন্ন স্থানে থাকা একাধিক গোপন গুদাম থেকে নকল, অবৈধ ও আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ মজুত এবং সরবরাহ করা হচ্ছে।
এসব গুদামের সংখ্যা নিয়ে অবশ্য একেক সূত্র একেক ধরনের তথ্য দিয়েছে। কারও দাবি, এমন গুদাম ১০ থেকে ১৫টি, আবার কারও ভাষ্য, সংখ্যাটি আরও বেশি। এর মধ্যে নুরুল গণি ও শিবু প্রসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ২০টি গোপন গুদাম থাকার অভিযোগও রয়েছে।
হাজারী লেনের মূল সড়ক থেকে ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে অসংখ্য গুদাম। দিনের ব্যস্ততায় সেখানে নিয়মিত পণ্য ওঠানামা ও পাইকারি বেচাকেনা চলে।
কোন গুদামে বৈধ ওষুধ আর কোথায় সন্দেহজনক পণ্য-সাধারণ ক্রেতার পক্ষে তা বোঝার সুযোগ নেই।
অভিযোগকারীদের মতে, এই সুযোগকে কাজে লাগিই বাজারের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে কথিত গোপন মজুতকেন্দ্র।
‘শান্তি সার্জিক্যাল’ ঘিরে অভিযোগ
গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে শিবু প্রসাদের মালিকানাধীন ‘শান্তি সার্জিক্যাল’ এ নকল স্ট্রিপ বিক্রির সময় তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হাতে-নাতে ধরা পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ আরও গুরুতর হয়েছে এ কারণে যে, কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিসিডিএস সভাপতি নুরুল গণি অভিযুক্ত শিবু প্রসাদকে দায়মুক্তি দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে এই অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হলে প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে অভিযান, সংশ্লিষ্ট গুদামগুলোর মালিকানা ও ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই, সন্দেহজনক ওষুধের নমুনা পরীক্ষা এবং উৎপাদন বা সংগ্রহস্থল থেকে সরবরাহের শেষ ধাপ পর্যন্ত পুরো চেইন অনুসন্ধান।
প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই যদি হাজারী লেনে এত বিপুলসংখ্যক গুদামে অবৈধ ওষুধ মজুত হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন ধরে সেগুলো নজরদারির বাইরে থাকল কীভাবে?
চার দশকের কারবার, শেষ কোথায়?
বাংলাদেশে নকল ওষুধের ব্যবসা নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। তবে প্রায় চার দশক ধরে ঢাকা ও চট্টগ্রামকে ঘিরে এমন একটি সরবরাহচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ সত্য হলে, তা বিচ্ছিন্ন কোনো দোকান বা ব্যক্তির কর্মকাণ্ড হওয়ার কথা নয়।
এর পেছনে থাকতে পারে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক-যেখানে কেউ পণ্য সংগ্রহ করে, কেউ মজুত করে, কেউ পরিবহন করে এবং কেউ তা বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, বৈধ ওষুধের চালানের সঙ্গে কখনো কখনো নকল পণ্য মিশিয়ে দেওয়া হয়। আবার পরিচিত ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টাও করা হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অভিযোগকারীদের মতে, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যকার এই কথিত সরবরাহচক্রের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি হাজারী লেন।
এখান থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের অন্য এলাকাতেও ওষুধ পাঠানো হয় বলে তাঁদের দাবি।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো নেটওয়ার্কের বিস্তার নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, চট্টগ্রামের একটি বাজারে ঢোকা নকল ওষুধ কি সেখানেই থেমে থাকে?
নকল ওষুধের ঝুঁকি জনস্বাস্থ্যে
নকল ওষুধের ক্ষতি সাধারণ ভেজাল পণ্যের ক্ষতির সঙ্গে তুলনীয় নয়। কারণ একজন রোগী যখন ওষুধ কিনে গ্রহণ করেন, তখন তিনি চিকিৎসা ও চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর আস্থা রেখেই তা করেন।
অ্যান্টিবায়োটিক, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার কিংবা অন্যান্য জটিল রোগের ওষুধ নকল হলে চিকিৎসার কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে।
রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। ভুল বা অপর্যাপ্ত উপাদান থাকলে তৈরি হতে পারে আরও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নকল ওষুধের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো-অনেক ক্ষেত্রেই রোগী বুঝতেই পারেন না যে তিনি আসল ওষুধের পরিবর্তে নকল পণ্য গ্রহণ করছেন।
অর্থাৎ প্রতারণাটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন একজন মানুষ চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে বেশি অসহায়।
নুরুল গণি ও শিবু প্রসাদকে ঘিরে যত অভিযোগ
নকল ওষুধের কথিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে নুরুল গণি ও শিবু প্রসাদের নাম কীভাবে যুক্ত-এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কয়েকটি সূত্রের দাবি, ওষুধ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিসিডিএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।
তাঁদের সঙ্গে ওয়াসিম, রাশেদসহ আরও ১৫ থেকে ২০ জনের একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার অভিযোগও রয়েছে।
এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নকল ওষুধ মজুত, বাজারজাতকরণ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।
শিবু প্রসাদকে ঘিরে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি ছাত্র-জনতা হত্যার একটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি-এমন দাবি করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে মামলার বর্তমান অবস্থা, এজাহারে তাঁর নামের বিষয়টি এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তি আদালতের নথি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য থেকে যাচাই করতে মাঠে কাজ করছে প্রতিবেদক ও তার টিম।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, নুরুল গণি চৌধুরী এবং ৫ আগস্টের পর পুনর্বাসিত কিছু নব্য বিএনপি কর্মীর মদদে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তদারকির অভাব এবং প্রশাসনের একাংশের কথিত নীরবতার সুযোগে মইনুল, গণি ও শিবু প্রসাদ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন এবং সেই অর্থে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী লালন-পালন করছেন-এমন অভিযোগও রয়েছে।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ব্যবসায়ীদের ভয়, প্রতিবাদের মূল্য
হাজারী লেনের সাধারণ ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্রের কারণে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বাজারের কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললে হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়তে হয়। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া তাঁদের জন্য কঠিন।
কেউ কেউ দাবি করেছেন, অবৈধ অর্থের প্রভাবে ভাড়াটে সন্ত্রাসী বা ভয়ভীতি প্রদর্শনকারী লোকজনও ব্যবহার করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ সত্য হলে তা কেবল একটি বাজারের অনিয়ম নয় বরং একটি নিয়ন্ত্রিত ও ভীতিকর ব্যবসায়িক পরিবেশের ইঙ্গিত বহন করে।
এ অবস্থার বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন হাজারী লেনের সাধারণ ওষুধ ব্যবসায়ীদের একটি অংশ। সিন্ডিকেট ভাঙা, অবৈধ কমিটি বাতিল এবং অসাধু চক্রের জবরদখল প্রতিরোধের দাবিতে তাঁরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
সিন্ডিকেটের একচেটিয়া আধিপত্য, কার্যালয় জবরদখলের আশঙ্কা এবং নকল ওষুধের কথিত রমরমা কারবারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী আট ব্যবসায়ী নেতা হলেন-আলমগীর নূর (নন্দন ফার্মা), আশীষ কুমার চৌধুরী (মেসার্স রোগমুক্তি ফার্মেসী), বিকাশ কান্তি সিংহ (মোহসেন আওলিয়া ফার্মেসী), দীলিপ কুমার সুশীল (অংকন মেডিকো), তপন বৈদ্য (ছবি মেডিকো), জয়নাল আবেদীন (আলিফ ড্রাগ হাউজ), শ্যামল চৌধুরী (অমিয় ফার্মেসী) এবং মোঃ লোকমান হোসেন (ফার্স্ট এইড ফার্মেসী)।
সিএমপি কমিশনারের পাশাপাশি বিষয়টি অবহিত করে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, র্যাব-৭ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে।
ব্যবসায়ীরা লালদীঘি সংলগ্ন বিসিডিএস কার্যালয় এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো, সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
হাজারী লেনের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার সর্তে বলেন, একটি মর্যাদাপূর্ণ সংগঠনকে ব্যক্তিগত ক্লাবে রূপান্তর করা হয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই প্রাণনাশের হুমকি মেলে। আমরা এই অবৈধ কমিটি এবং অসাধু সিন্ডিকেটের হাত থেকে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মুক্তি চাই।
নকল ওষুধের একটি বড় সরবরাহ নেটওয়ার্ক এককভাবে টিকে থাকা সম্ভব নয়। উৎপাদন বা সংগ্রহ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির প্রতিটি ধাপেই একাধিক পক্ষের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।
ফলে দীর্ঘদিন ধরে এমন কোনো চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন উঠবেই-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এতদিন তা শনাক্ত করতে পারেনি কেন?
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন ও ওষুধ প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এই নেটওয়ার্ককে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে থাকতে পারেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন কেউ কেউ।
অবৈধ সম্পদের অভিযোগও তদন্তের দাবি রাখে
নকল ও ভেজাল ওষুধের ব্যবসার মাধ্যমে নুরুল গণি, শিবু প্রসাদসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন-এমন অভিযোগও রয়েছে। কোনো কোনো অভিযোগে তাঁদের সম্পদের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বলা হয়েছে।
তবে সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং জমি-ফ্ল্যাটসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করছে প্রতিবেদক ও তার টিম।
এসব অভিযোগের সত্যতা মিললে বিষয়টি দুর্নীতি দমন ও আর্থিক অপরাধ তদন্তের আওতায়ও আসতে পারে।
নকল ওষুধের বিরুদ্ধে দেশে বিচ্ছিন্নভাবে বহুবার অভিযান হয়েছে। কোথাও দোকান সিলগালা, কোথাও জরিমানা, আবার কোথাও সন্দেহজনক পণ্য জব্দ করা হয়েছে। কিন্তু এসব অভিযান যদি মূল সরবরাহচক্রের উৎসে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
প্রয়োজন উৎস থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা। কোথা থেকে ওষুধ আসে, কারা সংগ্রহ করে, কোন গুদামে মজুত হয়, কীভাবে পরিবহন করা হয়, কারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে এবং এই ব্যবসার অর্থ কোথায় যায়-এসব প্রশ্নের উত্তর বের করা জরুরি।
তবেই বোঝা সম্ভব হবে, হাজারী লেনের কথিত নকল ওষুধের সাম্রাজ্য কতটা বিস্তৃত এবং এর প্রকৃত নিয়ন্ত্রক কারা।
চট্টগ্রামের হাজারী লেনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো তাই এখন আর শুধু ব্যবসায়িক অনিয়মের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনস্বাস্থ্য, ওষুধের নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতার প্রশ্ন।
নুরুল গণি ও শিবু প্রসাদকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ, গোপন গুদামের দাবি, নকল ওষুধের কথিত সরবরাহচক্র এবং প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশের অভিযোগ-সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি একটি পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তের দাবি রাখে।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরও আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
কারণ নকল ওষুধের বিরুদ্ধে লড়াই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান নয়, এটি মানুষের জীবন রক্ষার লড়াই।




