পুলিশ, পিবিআই, সিআইডি কিংবা ডিবির কর্মকর্তা পরিচয়—এরপর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার আশ্বাস। সঙ্গে গাড়িভাড়া ও তদন্ত খরচের কথা বলে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন মামলার বাদীদের টার্গেট করে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র।
অবশেষে ওই প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো. মোজাম্মেল হক ওরফে কবিরকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা।
গ্রেপ্তার মো. মোজাম্মেল হক ওরফে কবির নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার গৌরিপুর এলাকার মৃত বেশারত উল্লাহর ছেলে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানাধীন গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইসও উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার একটি মামলার সূত্র ধরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পিবিআই, সিআইডি কিংবা ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন মামলার বাদীদের ফোন দিয়ে আসছিল।
ফোনে তারা মামলার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত। এরপর গাড়িভাড়া ও তদন্ত খরচের কথা বলে বাদীদের কাছ থেকে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত।
বিষয়টি পিবিআইয়ের নজরে আসার পর পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিদর্শক (এসআই) (নিরস্ত্র) মো. আবু সুফিয়ান বাদী হয়ে রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলা রুজুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়।
পরে নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানাধীন গৌরীপুর এলাকার বেশারত উল্লাহর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরও বের হয়ে আসে, আসামি ও তার চক্রের সদস্যরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালত থেকে কৌশলে বিভিন্ন মামলার বাদীদের মোবাইল নম্বর ও অভিযোগের বিবরণ সংগ্রহ করত।
পরে নিজেদের তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বাদীদের বিশ্বাস অর্জন করত তারা। একপর্যায়ে নানা অজুহাতে প্রতারণার মাধ্যমে বাদীদের কাছ থেকে বিকাশে টাকা আদায় করত।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, চক্রটির সদস্যরা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম কার্ড ব্যবহার করত। এ কারণে তাদের শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লাগছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। একই সঙ্গে তার সহযোগীদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন তিনি।
পিবিআই জানিয়েছে, প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




