পারস্পরিক বনিবনা না হওয়ায় স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি করতে চান মোমেনা (ছদ্মনাম)। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্তে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পরিবার।
পরিবারের চাওয়া, স্বামীর সঙ্গে সুখে-শান্তিতে সংসার করুক তাদের মেয়ে। তবে পরিবারের কোনো পরামর্শই কাজে আসেনি। নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন মোমেনা।
সবার বাধা উপেক্ষা করে রীতিমতো চট্টগ্রাম আদালতে হাজির হন তিনি। তবে সেখানেও থামেনি পারিবারিক বাধা। পরিবারও ছুটে আসে আদালতপাড়ায়।
একপর্যায়ে মেয়েকে জোর করে গাড়িতে তুলে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে ছড়িয়ে পড়ে অপহরণের গুজব। এতে আদালতপাড়ায় সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার সকালে স্বামীকে আইনি ডিভোর্স দেওয়ার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির হন ওই তরুণী। এ সময় আদালতে উপস্থিত হন উভয়পক্ষের পরিবারের সদস্যরাও।
পরিবারের সদস্যরা যেকোনোভাবেই ডিভোর্সের প্রক্রিয়া ঠেকাতে চান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় কথাকাটাকাটি।
একপর্যায়ে তাহমিদার সঙ্গে তার বাবা, ভাই ও মায়ের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে কথা না শুনলে মেয়েকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এ সময় মেয়েটির আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। তারা গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করে রাখেন বলে জানা গেছে।
তবে পরবর্তীতে উভয়পক্ষকে থানায় গিয়ে বিষয়টির সুরাহা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহেদুল কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি ডিভোর্সকে কেন্দ্র করে। মেয়েটি তার স্বামীকে ডিভোর্স দিতে চান। তবে এতে বাধা দেয় তার পরিবার।
ওসি বলেন, পরিবারের কথা না শুনে মেয়েটি আজ আদালতে এলে তার বাবা ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য তাকে গাড়িতে তুলে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় মেয়েটি চিৎকার-চেঁচামেচি করলে জনসাধারণ এতে বাধা দেয়। এ নিয়ে আদালত এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণে আদালত এলাকায় পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। তবে দুইজনকে আটকের বিষয়টি সঠিক নয়।
ভুক্তভোগী মেয়েটি, তার স্বামী কিংবা তার বাবার নাম এখনো জানা যায়নি। তারা থানায় এলে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। ঘটনা নিয়ে পরে বিস্তারিত জানা যাবে।




