সীতাকুণ্ডে বিশেষ কর্মসূচির পর এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে মৃত্যু নেই: ডিসি জাহিদ

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচির পর গত সপ্তাহে সেখানে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তাঁর দাবি, ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও কমছে। তবে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতায় জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

শনিবার (৩ অক্টোবর) কর্ণফুলী উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে আয়োজিত বিশেষ কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। এদিন উপজেলার চিহ্নিত ১০টি ডেঙ্গু ‘হটস্পটে’ মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হয়।

- Advertisement -
google news follower

জেলা প্রশাসক বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলাগুলোর মধ্যে সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীতে সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি ছিল বলে জানান তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত সপ্তাহে সীতাকুণ্ডে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণের পর গত সপ্তাহে সীতাকুণ্ডে আর কোনো মৃত্যু ঘটেনি।’ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সেখানে সংক্রমণের হার আরও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

- Advertisement -
islamibank

হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যাও কমছে বলে দাবি করেন জেলা প্রশাসক। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরের হাসপাতালগুলোতে গত দুই দিনে যথাক্রমে ৯২ ও ৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

কর্ণফুলীতে শনিবার সৈন্যাটেরক থেকে ব্রিজঘাট পর্যন্ত সচেতনতামূলক র‍্যালি করা হয়। র‍্যালি শেষে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ফগার মেশিন চালিয়ে মশকনিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। পরে উপজেলার ১০টি ডেঙ্গু হটস্পটে পরিচালিত কার্যক্রম তদারক করেন তিনি।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু চিকিৎসা দিয়ে আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে পারব না। আমাদের ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করতে হবে।’

এ জন্য বাড়িঘর, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘আপনি আপনার ময়লা নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলে রাস্তায় ফেললে তো হবে না।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১২ সেপ্টেম্বর জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনা হয় বলে জানান জেলা প্রশাসক। এরপর বিভিন্ন উপজেলায় পরিচ্ছন্নতা, মশকনিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘যাঁরা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তাঁরা আমাদেরই ভাই বা নিকটাত্মীয়। আমরা চাই না এভাবে আর কারও প্রাণ যাক।’

চিকিৎসার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক শয্যা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সরবরাহ করা হয়েছে।

কর্মসূচিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আমিরুল মোস্তফাসহ উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেএন/এমআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ