একুশ বছরের এক অতুলনীয় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। বিশ্বকাপ জয়, দুটি কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা-আর আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল। এবার সেই বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের শেষ পাতায় পৌঁছে গেছেন লিওনেল মেসি।
মঙ্গলবার বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে স্মরণীয় এক বিদায়ী প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক। তার আগে রোববার (৪ অক্টোবর) এজেজায় জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
শেষবারের মতো আলবিসেলেস্তেদের জার্সি গায়ে জড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা।
এজেজায় মেসিকে পেয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতেও দারুণ ছন্দে আছে আর্জেন্টিনা। বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারানোর পর বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে তারা।
রোববার সন্ধ্যায় দলের প্রথম দিনের অনুশীলনও শেষ হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘আসাদো’ বা বারবিকিউয়ের আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
তবে এবারের প্রস্তুতির আবহ অন্য যেকোনো ম্যাচের চেয়ে আলাদা। কারণ, আর্জেন্টিনার অনুশীলন ক্যাম্পে এবার উপস্থিতি শুধু একজন অধিনায়কের নয়-একটি যুগের প্রতীক লিওনেল মেসির।
মঙ্গলবার মাঠে নামার সময় জাতীয় দলের হয়ে মেসির ঝুলিতে থাকবে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোলের অনন্য রেকর্ড। বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা জয়ের গৌরব তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে দিয়েছে আরও মহিমান্বিত মাত্রা।
আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে মাঠ মাতানো সেই তারকার বিদায় তাই নিছক একটি প্রীতি ম্যাচের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি হয়ে উঠেছে এক প্রজন্মের আবেগের বিদায়।
মেসিকে ঘিরে এই বিশেষ আয়োজনের কারণও স্পষ্ট করেছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া।
৮৫ হাজার দর্শকের সামনে বিদায়ী আয়োজনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রতীক ও অধিনায়ক লিওনেল আন্দ্রেস মেসিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী ৬ অক্টোবর দেশের মাটিতে তিনি তার প্রাপ্য সম্মানজনক বিদায় পান।
রিভার প্লেটের মাঠ এস্তাদিও মনুমেন্তালে তাই মঙ্গলবার শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের সাক্ষী হবে না। এই সন্ধ্যাকে ঘরের মাঠে মেসির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাঞ্জলির আবহে সাজানো হয়েছে।
বিদায়ী ম্যাচে মেসির পাশে থাকবেন তার দীর্ঘদিনের জাতীয় দল সতীর্থদের কয়েকজন। ১০ নম্বর জার্সিধারীর সঙ্গে মাঠে দেখা যাবে জিওভানি লো সেলসো, রদ্রিগো দি পল ও নিকোলাস ওতামেন্দিকে। গ্যালারি থেকে অধিনায়ককে সমর্থন জানাতে উপস্থিত থাকবেন লেয়ান্দ্রো পারেদেসও।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ফিফার দেওয়া ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও পারেদেসকে এই বিশেষ আয়োজনে উপস্থিত থাকা থেকে বিরত রাখতে পারেনি।
তবে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপজয়ী দুই সতীর্থ পাওলো দিবালা ও নাহুয়েল মোলিনাকে দেখা যাবে না এই বিদায়ী আয়োজনে। এএস রোমা তাদের ভ্রমণে বাধা দেওয়ায় দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি তারা।
মেসির বিদায়কে স্মরণীয় করে তুলতে স্বাগতিক আর্জেন্টিনার জার্সিতেও থাকছে বিশেষত্ব। এদিন মাঠে নামবে তারা বিশেষ নকশার এক অনন্য জার্সি পরে।
আইকনিক ১০ নম্বরের চারপাশে জড়িয়ে থাকবে আর্জেন্টিনার প্রতীকী ‘সান অব মে’ বা মে মাসের সূর্য এবং লরেল পাতা-যেন একটি জার্সির নকশাতেই ফুটে উঠবে গৌরব, বিজয় ও বিদায়ের গল্প।
মঙ্গলবারের রাতটি তাই শুধু বেনিনের বিপক্ষে একটি ম্যাচ নয়। এটি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির দীর্ঘ পথচলার আবেগঘন সমাপ্তির মঞ্চ।
যে জার্সিতে তিনি বিশ্বজয় করেছেন, যে ১০ নম্বরকে তিনি করেছেন কিংবদন্তির প্রতীক, সেটিই শেষবারের মতো গায়ে জড়িয়ে নামবেন মাঠে।
বুয়েনস আইরেসের ৮৫ হাজার দর্শক তখন হয়তো শুধু একটি ম্যাচ দেখবেন না—তারা সাক্ষী থাকবেন ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের শেষ দৃশ্যের।
আর সেই দৃশ্যের কেন্দ্রে থাকবেন একজনই-লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। সূত্র: গোলডটকম




