জিপিএ-৫ কমল ৩ হাজার ১৬৮

১৫ বছরের রেকর্ডে এইচএসসিতে সর্বনিম্ন পাসের হার চট্টগ্রাম বোর্ডে

অনলাইন ডেস্ক

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের হতাশার চিত্র উঠে এসেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে। গত ১৫ বছরের মধ্যে এবারই সর্বনিম্ন পাসের হার রেকর্ড করেছে বোর্ডটি।

- Advertisement -

শুধু পাসের হারেই নয়, উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। সব মিলিয়ে এবারের ফলাফল চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

- Advertisement -
google news follower

শনিবার (৩১ অক্টোবর) শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ।

গত বছর এ হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ পয়েন্ট।

- Advertisement -
islamibank

তবে পাসের হারের চেয়েও বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির চিত্র। এবার বোর্ডটিতে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ১৬৮ জন।

ফলে সামগ্রিক ফলাফলে যেমন নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে, তেমনি মেধাতালিকাতেও কমেছে শীর্ষ ফল অর্জনকারীর সংখ্যা।

৯৬ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী, পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ১১৪টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ২৮০টি কলেজের মোট ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। ছেলেদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে মেয়েদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে।

তিন পার্বত্য জেলায় সবচেয়ে হতাশাজনক ফল

জেলাভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে কম পাসের হার খাগড়াছড়িতে।

জেলাটিতে মাত্র ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশই পাস করতে পারেনি।

এ ছাড়া রাঙামাটিতে পাসের হার ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ। তিন পার্বত্য জেলার ফলাফলই বোর্ডের সামগ্রিক চিত্রে উদ্বেগের মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে তুলনামূলক ভালো ফল হয়েছে। এখানে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ।

তিন কলেজে কেউ পাস করেনি, শতভাগ সাফল্য ছয়টিতে

এবারের ফলাফলে তিনটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। বিপরীতে ছয়টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

একই বোর্ডের অধীনে একদিকে শতভাগ সাফল্য, অন্যদিকে কোনো শিক্ষার্থীর পাস না করার ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলে বড় ধরনের বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেছে।

এক বছরের ব্যবধানে আরও পিছিয়ে বোর্ড

গত বছরের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলেও এবারের চিত্র আশাব্যঞ্জক নয়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ৩ হাজার ১৬৮ জন।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, গত ১৫ বছরের ফলাফলের ধারাবাহিকতায় এবারই পাসের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

ফলে কেবল সংখ্যার বিচারে নয়, সামগ্রিক শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলের ব্যবধান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এবারের ফলাফল দীর্ঘ সময়ের মধ্যে অর্জিত সর্বনিম্ন পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির বড় পতনের কারণে এটি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ