সীতাকুণ্ডে আলোচিত আট বছরের শিশু জান্নাতুল নেসা (ইরা মনি) হত্যা মামলার বহুল প্রতীক্ষিত রায় নির্ধারিত দিনেও ঘোষণা হয়নি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রায় দেওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তা পিছিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আদালত সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
তবে অনিবার্য কারণে তা সম্ভব হয়নি। আদালত বসলে বৃহস্পতিবার দুপুরে রায় ঘোষণা করা হতে পারে।
মামলার একমাত্র আসামি বাবু শেখ (৪৫)। তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকায়।
গত ৩০ জুন আসামি আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন। এর আগে ছয় কার্যদিবসে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
অভিযোগপত্র দাখিলের পর মাত্র ১২ কার্যদিবসের মধ্যেই মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছায়, যা বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুত অগ্রগতির একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
নিহত ইরা মনি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ার টমটমচালক মনিরুল ইসলাম এর মেয়ে। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত বাবু শেখ।
পরে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার কথা বললে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির গলা কেটে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ইরা মনিকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর ইরা মনির মা সীতাকুণ্ড থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ১১ জুন পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
১৮ জুন অভিযোগ গঠনের পর ২১ জুন থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। সব প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি এখন রায় ঘোষণার অপেক্ষায়।
এখন ইরা মনির পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আগামী বৃহস্পতিবারের দিকে। সেদিনই আলোচিত এই মামলার বিচারিক পরিণতি জানা যেতে পারে।




