নন-ক্যাডার কর্মকর্তা হয়েও নিজেকে ‘বিসিএস বন কর্মকর্তা’ পরিচয়ে বেপরোয়া প্রভাব বিস্তার, সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড়, চাঁদাবাজি এবং বদলি বাণিজ্যের মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে অনুসন্ধানের বাইরেই থেকে যাচ্ছেন ফরেস্ট রেঞ্জার আব্দুল মালেক।
একের পর এক গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিললেও অদৃশ্য এক প্রশাসনিক খুঁটির জোরে তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কর্মজীবনের শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে দুর্নীতিকে নিয়মে পরিণত করেছেন আব্দুল মালেক।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা থাকাকালে ডিবি পুলিশের আদলে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে ভুয়া অভিযান চালিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় এবং বাজেয়াপ্ত সরকারি কাঠ গোপনে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সূত্র-ডিডি
শুধু বন উজাড়ই নয়, অবৈধ উপার্জনে তিনি এখন বস্তুত ‘টাকার কুমির’। ঢাকায় কিনেছেন বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, নিজ গ্রামে পরিবারের সদস্যদের নামে জমি বাগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিপুল অর্থ জমা করেছেন নিজের ও স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ই-নথিতে মালেক ও তাঁর স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে অনুসন্ধান চালালেই বেরিয়ে আসবে এই অবৈধ সাম্রাজ্যের আমলনামা।
অথচ অদ্ভুত বিষয় হলো, এসব অনিয়মের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ঊর্ধ্বতন বন সংরক্ষকের দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও তা যেন হিমঘরে বন্দি।
এমনকি ক্ষুব্ধ মাঠপর্যায়ের শত শত বনকর্মী মালেকের নিপীড়ন ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে দপ্তরে আবেদন করলেও অদৃশ্য কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো তদন্তের বাঁশি বাজেনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাঙ্গামাটি অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোহাম্মদ আবদুল আউয়ালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্কই মালেকের এই ধরাছোঁয়ার বাইরের থাকার প্রধান কারণ।
এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই অনৈতিক লেনদেন ও ক্ষমতার দাপটে সুবিধাজনক স্থানে পদায়ন পাচ্ছেন তিনি।
ফলে বারবার বনাঞ্চল ধ্বংস, জমি দখল এবং দুর্নীতি করলেও আব্দুল মালেক রয়ে যাচ্ছেন সব ধরনের তদন্ত ও প্রশাসনিক শাস্তির আওতার বাইরে।সূত্র-এসসি
বনাঞ্চল রক্ষা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই বিতর্কিত কর্মকর্তার অঢেল সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুদককে স্বাধীন তদন্ত শুরু করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।




