দুই দিনের বৃষ্টির পরও স্বাভাবিক নগরজীবন, জলাবদ্ধতা নিয়ে আশার বার্তা মেয়রের

অনলাইন ডেস্ক

দুই দিনের টানা বর্ষণের পরও চট্টগ্রাম নগরীতে উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা না হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে নগরবাসীর মধ্যে। কোথাও দীর্ঘ সময় পানি জমে না থাকায় স্বাভাবিক ছিল যান চলাচল ও জনজীবন।

- Advertisement -

এই পরিস্থিতিকে চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, খাল-নালা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সার্বক্ষণিক তদারকির ইতিবাচক ফল হিসেবে দেখছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

- Advertisement -
google news follower

সোমবার সকালে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের বাস্তব চিত্র, খাল-নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি।

বিভিন্ন স্থানে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

- Advertisement -
islamibank

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, টানা দুই দিনের বৃষ্টির পরও নগরীর অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হয়েছে।

ফলে কোথাও উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। এতে নগরবাসীকে দীর্ঘ সময় পানিবন্দি অবস্থায় থাকতে হয়নি এবং স্বাভাবিক ছিল যান চলাচল।

পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কারণেই টানা দুই দিনের বৃষ্টির পরও নগরীতে কোনো উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।”

তিনি বলেন, “বর্ষা মৌসুমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি।”

তবে এ অর্জনে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই বলেও ইঙ্গিত দেন মেয়র। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেন, বর্ষা মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখতে হবে।

যেসব এলাকায় অতীতে জলাবদ্ধতার প্রবণতা ছিল, সেসব স্থানে বিশেষ নজরদারি চালানোর পাশাপাশি খাল, নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, নাগরিকদের সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি নগরবাসীকে নালা-নর্দমা, খাল কিংবা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান।

তাঁর ভাষায়, পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলেই জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।

পরিদর্শনের সময় মেয়র বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের মতামত শোনেন।

পাশাপাশি নগরবাসীর যেকোনো অভিযোগ বা তথ্য দ্রুত যাচাই করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বর্ষা মৌসুমজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, খাল-নালা ও ড্রেন পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বিশেষ মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলীসহ কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ