চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর চৌধুরী ও সাবেক ট্রেজারার মো. বেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন একই কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক সবুজ হোসেন।
মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের অভিযোগ, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতিতে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি বরাদ্দের ২ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং অন্যান্য অনুদানের ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন আসামিরা।
২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর উপ-পরিচালক আল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার প্রধান আসামি মো. জাহাঙ্গীর চৌধুরী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার শাহনগর গ্রামের ফারুখ আহমেদ চৌধুরীর ছেলে। অপর আসামি মো. বেলাল চৌধুরী নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতিকে দেওয়া সরকারি মঞ্জুরিকৃত অনুদানের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে আসামিরা যোগসাজশ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ৪ জুলাই হাসপাতালের জন্য একটি জমি কেনার বায়নানামা তৈরি করা হয়। তবে বায়নানামাটি ছিল অনিবন্ধিত। সেখানে মো. বেলাল উদ্দীন হাসপাতালের পক্ষে বায়নাগ্রহীতা এবং মো. জাহাঙ্গীর চৌধুরী বায়নানামা দাতা হিসেবে উল্লেখ ছিলেন।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, হাটহাজারী ভূমি অফিসের অধীন ৬ দশমিক ৪৪ একর জমির মালিকানা ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবরের ১০৮৮৫ নম্বর আমমোক্তারনামার (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) মাধ্যমে নিজের বলে দাবি করেন জাহাঙ্গীর চৌধুরী। ওই আমমোক্তারনামা দেন মোহাম্মদ ইদ্রিস চৌধুরী। তিনি ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মারা যান।
এজাহারে আরও বলা হয়, ওই জমির কোনো নামজারি কিংবা জমাভাগ খতিয়ান করা হয়নি। এরপরও সরকারি টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তৈরি করা বায়নানামায় ৬ দশমিক ৪৪ একর জমির মূল্য ৯ কোটি টাকা দেখানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের জন্য ওই জমি কেনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
দুদকের মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের একটি হলো-ওই জমির বায়নানামাকে ভিত্তি করে সরকারি বরাদ্দের ২ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং সিডিবি প্রকল্পের নামে পাওয়া ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীর চৌধুরী এসব অর্থ নিজের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করেন।
সব মিলিয়ে সরকারি অনুদান ও অন্যান্য অনুদানের ২ কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাহাঙ্গীর চৌধুরী ও বেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছে দুদক।




